বিনা অসুখে আচমকা মায়ের মৃত্যু তিন বোনের মাঝে নিয়ে এলো হতভম্বতা। সেই হতভম্বতা কাটিয়ে ওঠার পর ওদের বেদনার্ত চিৎকারে আকাশ–বাতাস ভারী হয়ে গেল। ওদের বাবা স্তব্ধ। যার নির্ভেজাল ভালোবাসায় তিনি আচ্ছন্ন ছিলেন, তার অনাকাঙ্ক্ষিত চলে যাওয়ায় কাঁদবেন, নাকি তিন মেয়েকে সান্ত্বনা দেবেন—তা ঠিক বুঝতে পারছিলেন না।
বড় বোনের নাম মুনীয়া। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী। মেজো বোন মহুয়া ক্লাস নাইনে পড়ে। আর ছোট বোন মাধুরিমা ক্লাস ফাইভে।
মুনীয়া নিজেই নিজেকে সাহস জুগিয়ে শক্ত হয়। বাবার বয়স হয়েছে। তার ওপরই নির্ভর করছে ছোট দুই বোনের জীবনের অনেক কিছু। মা যে দায়িত্বটা পালন করতেন, সেটাও বাবার ওপর পড়লে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। মায়ের দায়িত্বটা মুনীয়া নিজের কাঁধে নিতে সংকল্পবদ্ধ হয়।
নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি বাসার সব দায়িত্বই মুনীয়া সুচারুভাবে পালন করতে থাকে। বোনদের ছোটখাটো আবদার মেটানোর জন্য সে দুটি টিউশনিও জোগাড় করে নেয়। কারণ মা সব সময়ই কিছু সঞ্চয় করতেন। সেই সঞ্চয়ের অর্থ থেকে ওদের টুকিটাকি চাহিদা মেটাতেন।
মাতৃহীন সংসারে তাদের খাওয়া–পরা, হাসি–আনন্দ, গল্প—সবই ছিল। সেই সঙ্গে যখন-তখন মাকে মনে পড়ার কষ্টটাও ছিল। বিশেষ করে ওরা একা হলেই মা মনের ঘরে এসে হানা দিত। তখন বুক ফেটে যেতে চাইত। মুনীয়া আর মহুয়া গলার কাছে বুকফাটা কান্না আটকে রাখত। মাধুরিমা তা পারত না। সে কান্নায় ভেঙে পড়ত। নিজেদের কান্না বুকে আটকে রেখে মুনীয়া আর মহুয়া মাধুরিমাকে বুকে চেপে রাখত।
সব কিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ভেতর বাবা একদিন সব ওলটপালট করে দিলেন। একদিন এক মধ্যবয়সী নারীকে নিয়ে তিনি বাসায় এলেন এবং বললেন—এটা তোমাদের নতুন মা। সে তোমাদের ভালোবেসে বুকে টেনে নেবে, তোমরাও তাকে আপন করে নেবে। নতুন মা বা ছোট মা—যেকোনোটাই তোমরা তাকে ডাকতে পারো।
নারীটি দেখতে সুন্দর। তিনি হাসিমুখে ওদের সঙ্গে কথা বললেন। মাধুরিমাকে কাছে টেনে নিলেন।
কিন্তু ওরা তাকে আপন করে নিতে পারল না। মায়ের স্থান অন্য কাউকে দিতে পারল না—অথবা তা দেওয়া যায়ও না। ওরা তাকে নতুন মা, ছোট মা—কোনোটাই ডাকল না। ওরা ডাকল—আন্টি। এতে বাবা মনঃক্ষুণ্ন হলেন। ওদের এক কথা—আমাদের মা চলে গেছে অজানায়, কিন্তু আছে আমাদের অস্তিত্বে। আমরা আর কাউকে মা ডাকতে পারব না।
মাঝেমাঝেই এটা–ওটা নিয়ে ওদের নতুন মায়ের সঙ্গে ঝামেলা হয়, কথা কাটাকাটি হয়। উভয় পক্ষই বাবার কাছে বিচার দেয়। প্রথম প্রথম বাবা দুই পক্ষকেই বোঝাতে চাইতেন। তবে এক সময় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে মেয়েদের ধমক দিতে থাকেন। এই ব্যাপারটা মুনীয়া, মহুয়া ও মাধুরিমার মনে মাতৃহীনতার কষ্ট আরও বাড়িয়ে তোলে। এক পর্যায়ে ওরা আর নতুন মায়ের ব্যাপারে বাবার কাছে কোনো নালিশ জানায় না। শুধু গোপনে চোখের জল ফেলে।
নতুন মায়ের যে কথাটা ওদের কাছে সবচেয়ে বিরক্তিকর ছিল, সেটা হলো—তোমরা তিন বোন আছো, আমার যদি একটা ছেলে হয়, তোমাদের একটা ভাইও হবে। তিন বোনের এক ভাই। তোমরা তাকে অনেক আদর করবে, সেও তোমাদের ভালোবাসবে।
কথাটা সুন্দর। একটা ভাইয়ের আকাঙ্ক্ষা যে ওদের ভেতর নেই, তা নয়। মা বেঁচে থাকতে এটাই ছিল ওদের প্রধান চাওয়া। কিন্তু ওরা নতুন মায়ের কাছ থেকে কোনো ভাই চায় না। ওরা বুঝে নেয়—নতুন মায়ের ছেলে হলে বাবার সম্পত্তির বড় উত্তরাধিকারী হয়ে যাবে সে। সৎমা যেমন পরিপূর্ণ মা হয় না, সৎ ভাইও তো পরিপূর্ণ ভাই হবে না। তবুও সৎমা ওদের কাছে কথাটা তুলতেই থাকে। একদিন মহুয়া ঝন করে বলে ওঠে—তোমার তো একটা ছেলে আছে। তুমি আবার এখানে ছেলে চাচ্ছো কেন?
হ্যাঁ, সেই নারী—মানে ওদের সৎ মায়ের আগের সংসারে একটি ছেলে আছে। ছেলেটা স্কুলে পড়ে। আগের স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলেটাকে তার নানীর কাছে রেখে এসেছেন। ওদের সৎমা মহুয়ার কথার জবাবে বলেন—একটা ছেলে আছে তাতে কী? এটা তো আমার নতুন সংসার। তোমার বাবার সঙ্গেও আমার একটা স্মৃতি থাকা উচিত না? তোমাদের একটা ভাই হলে তোমার বাবার মৃত্যুর পরও তোমাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অটুট থাকবে। আবার আমি যদি আগে মারা যাই, তো তোমাদের কাছে আমার একটা স্মৃতি থাকবে। এই কথাটাও সুন্দর।
তারপরও ওদের মন গলে না। ওরা কোনো স্মৃতি চায় না। চাইলেও অনেক কিছু পাওয়া যায় না, আবার না চাইলেও অনেক কিছু চলে আসে। ওরা একটা ভাই চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি। ওরা সৎ ভাই চায়নি, অথচ একদিন ঠিকই পেয়ে গেল।
মুনীয়া অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। মহুয়া এসএসসি পাস করে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে। আর মাধুরিমা ক্লাস এইটে। তখন ওদের ঘর আলো করে এলো ফুটফুটে সুন্দর একটা সৎ ভাই। ভাইটির দিকে তাকিয়ে ওদের মনে মায়া হলো। ওরা ভাইটিকে কোলে তুলে নিল, আদর করল। তারপরও মনের গোপন কোনো এক কুঠুরিতে রয়ে গেল কিছুটা বিরক্তি, কিছুটা হিংসা।
মান–অভিমান, ঝগড়াঝাঁটি, কথা কাটাকাটি—এসব নিয়েই চলছিল ওদের সময়। বাবার প্রতি ওদের প্রধান অভিযোগ—কেন বাবা আবার বিয়ে করলেন? ওদের মা তাকে এতটা ভালোবেসেছিল! সেই ভালোবাসাকে আগলে ত্যাগ স্বীকার করা যেত না? ভালোবাসার চেয়ে বড় এই পৃথিবীতে কী আছে আর? অভিযোগ আর কিছু অভিমান সত্ত্বেও বাবাই ওদের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা, বাবাই ওদের প্রধান আশ্রয়।
আচমকা একদিন সেই আশ্রয় মাথার ওপর থেকে সরে গেল। ঠিক মায়ের মতো বাবাও আচমকা চলে গেলেন।
রাত বারোটা। সৎ মা ছুটে এসে বললেন—তোমরা এসো। তোমাদের বাবা যেন কেমন করছেন।
ওরা ছুটে গেল। গিয়ে দেখে বাবা ভীষণ ঘামছেন। ঘামে শরীরের জামা ভিজে জবজবে। পাখা বাড়ানোই ছিল। মুনীয়ারা ঘর থেকে স্ট্যান্ড ফ্যান এনে চালিয়ে দিল। কিন্তু তাতেও ঘাম কমে না। মুনীয়া বাবার ব্লাড প্রেসার মাপল। প্রেসার অনেক বেশি। বাবাকে একটি হাই ব্লাড প্রেসারের ওষুধও খাইয়ে দিল। বাবার গায়ের জামা খুলে দিল। মুনীয়া বাবাকে শুইয়ে দিয়ে মহুয়া আর মাধুরিমাকে বলল—তোমরা বাবার মাথায় পানি ঢালো, আমি উবার ডাকছি।
উবার আসতে সময় লেগেছিল পনেরো মিনিট। এর মধ্যে বাবা অচেতন। অচেতন বাবাকে ধরে উবারে তুলে ওরা হাসপাতালে নিয়ে গেল। ইমার্জেন্সির ডাক্তার বাবার হাত ধরেই বড় নিঃশ্বাস ছাড়লেন। বললেন—শেষ। আরও আগে আনার দরকার ছিল।
ওদের সম্মিলিত চিৎকার—না, ডাক্তার না। আপনি ভালো করে দেখুন।
ছুটে এলো আরও ডাক্তার, নার্স। তারা বাবার বুকে চাপ দিতে লাগল। নাকে–মুখে বাতাস দিতে লাগল। কিন্তু কোনো ফল হলো না।
কয়েক দিন ওরা স্তব্ধ রইল। স্তব্ধ ওদের সৎ মা।
কয়েক দিন পর স্তব্ধতা কাটিয়ে সৎ মা ওদের কাছে এলেন। বললেন—আমি এক হতভাগী নারী। আমার প্রথম স্বামী মারা গেলেন। ছেলেটা কিছুটা বড় ছিল বলে তাকে নানীর কাছে রেখে তোমার বাবার সঙ্গে ঘর বাঁধলাম। তোমার বাবার সঙ্গে সুখী ছিলাম। কিন্তু আমার কপালে সে সুখ সইল না। আজ মনে হচ্ছে, আমার মতো ভাগ্যহত নারীর কারণেই তোমাদের বাবা হুট করে চলে গেলেন; না হলে আরও অনেক দিন থাকতেন। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। আমি আর নতুন করে কোনো স্বপ্ন দেখি না। কিন্তু আমি এখন কোথায় যাব? এই শিশুটাকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? কার কাছে দাঁড়াব? আমার যে…।
মুনীয়া বলল—তুমি কোথাও যাবে না, মা। তুমি আমাদের কাছে থাকবে। তুমি কোনো চিন্তা করবে না। আমরা আছি। আমরাও কোনো চিন্তা করব না, কারণ তুমি আছো আমাদের সঙ্গে। আমরা সব হারিয়েছি। তোমাকে আর হারাতে চাই না। তুমি আমাদের মা। আমরা তোমার মেয়ে।
মহুয়া বলল—আমাদের ভাইকে মানুষ করার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। ওর জন্য আমরা সব করতে রাজি। বাবার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি ওর। আমরা কিছুই চাই না। তুমি শুধু আমাদের পাশে থেকো, মা।
সেই প্রথম ওরা সৎমাকে মা বলে ডাকল।
মাধুরিমা ভাইটাকে কোলে তুলে নিল। চুমোয় চুমোয় ভরে দিল ভাইয়ের গাল।
চোখে জল নিয়েও মায়ের মুখে হাসি ফুটে উঠল। পৃথিবীতে তার জন্য এত প্রাপ্তি জমা রয়েছে—তা সে কল্পনাও করেনি। কোন জনমে সে এত পুণ্য সঞ্চয় করে রেখেছিল, কে জানে।
চলে গেছে অনেক দিন, অনেক মাস, অনেক বছর।
ভর দুপুর। সুনসান নীরবতা চারদিকে।
মুনীয়া নিজের ঘরে বিছানায় আধশোয়া হয়ে গান শুনছিল—‘দিন চলে যায়, সবই বদলায়/ শুধু যে আমার এ মন/ যা ছিল থাকে তেমন/ পুরোনো হয় না…।’
সত্যিই দিন চলে গেছে অনেকটা। মুনীয়ার চুলের সামনের অংশ সাদা। চোখে অধিক পাওয়ারের চশমা। মুখে বয়সের বলিরেখা। কিন্তু ওর মনটা এখনও আগের মতোই আছে। আগের মতোই পরম মমতায় ভাই–বোনকে আগলে রেখেছে, তাদের জন্য প্রাণান্ত করছে।
দরজার বাইরে থেকে মায়াভরা কণ্ঠ—আপা।
মুনীয়া কান থেকে হেডফোন খুলে বলল—আয়, মোহন।
মোহন এসএসসি ও এইচএসসি—দুটোতেই অসাধারণ রেজাল্ট করেছে। আইইএলটিএস-এর উঁচু স্কোর করায় এখনই অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার সুযোগ পেয়ে গেছে। যাওয়া–সবকিছু ঠিকঠাক।
মোহন ঘরে এলো। মুনীয়ার পায়ের কাছে বসল। মুনীয়া বলল—কিছু বলবি?
মোহন কিছু বলে না। মাথা নিচু করে বসে থাকে। মুখটা ম্লান। দুঃখী দুঃখী চেহারা। মুনীয়া আবার বলল—কিছু বলবি, মোহন?
—আপা, আমার জন্য তোমার জীবনে কিছুই হলো না। শুধু খেটেই গেলে। ভালো সরকারি চাকরি করলে। অবসরের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছ। কিন্তু নিজের কিছুই নেই।
—কি আবোল–তাবোল বকছিস তুই? ফাজিল কথাকার! তোরা কি আমার কেউ না, কিছুই না?
—আপা, তোমার তো সংসার হলো না। মেজো আপাও কি তোমার মতোই থাকবে? আমি অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরে দেখেশুনে মেজো আপার বিয়ের ব্যবস্থা করো। আমাকে খবর দিলেই আমি ছুটি–ছাটা ঠিক করে তোমাদের তারিখ দেব। সেই তারিখমতো বিয়ের দিন ফেলো। আমি চলে আসব। মেজো আপার বিয়েতে অনেক আনন্দ করব।
—সেটা হবে।
—আমার তো বছর চারেক লাগবে। আমি এলে ছোট আপার বিয়ে হবে।
—আচ্ছা।
—আপা…
—বল।
—তোমাদের ছেড়ে আমার যেতে ইচ্ছে করছে না, আপা।
মুনীয়া একটু হাসল। হেসে বলল—বোকা ছেলে!
তারপর ছাদের দিকে তাকিয়ে মুনীয়া বলল—চার বছর কোনো সময় হলো? চোখের পলকে চলে যাবে। মা মারা গেল। তার বছর চারেকের মধ্যে বাবা চলে গেল। তারপর ছোট মা। তারপর এতটা সময় কোথা দিয়ে চলে গেল, টেরই পেলাম না। সেই এতটুকু তুই আজ পড়তে যাচ্ছিস অনেক দূরে! ভাবলে গর্বে আমার বুকটা ফুলে হিমালয়সম হয়ে যায়। মহুয়া আর মাধুরিমার বিয়ে হবে। তুই ফিরে এলে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মেয়েটার সঙ্গে তোকে বিয়ে দেব। তারপর আমার ছুটি। বলব—পৃথিবীতে আমার যা দায়িত্ব ছিল, আমি তার সব পালন করেছি। এবার আমি ছুটি চাই।
কথাগুলো বলতে বলতে মুনীয়ার চোখে জল জমে উঠল। এই জল ভেঙে চুরমার করে দিল মোহনকে। মোহন মুনীয়ার কোলে মাথা রেখে শিশুর মতো চিৎকার করে কেঁদে উঠল—আমি যাব না, আপা। তোমাদের ছেড়ে আমি যেতে পারব না। তোমাদের স্পর্শ ছাড়া আমি এক দিনও বেঁচে থাকতে পারব না। আমার কোনো বিদেশি ডিগ্রি চাই না। আমি যাব না, আপা। যাব না… যাব না…।
মোহনের কান্না শুনে ওদের ঘর থেকে ছুটে এল মহুয়া আর মাধুরিমা। ওরা বলল—কী হয়েছে, আপা?
মুনীয়ার কপাল বেয়ে নেমে আসছে জলের ধারা। মুখে হাসির রেখা টেনে মোহনের চুলের ভেতর আঙুল চালাতে চালাতে বলল—আচ্ছা, যাসনে। তোকে যেতে হবে না কোথাও।
মহুয়া আর মাধুরিমা মোহনকে ধরে দাঁড় করাল। মোহন স্থির হতে পারছিল না। বলল—তোমাদের ঋণের একটা কণাও আমি শোধ করতে পারব না, আপা।
মহুয়া বলল—তুই ব্রিলিয়ান্ট, তা জানি; কিন্তু তুই যে এত বোকা, তা জানতাম না। স্নেহ–মায়া–মমতা–ভালোবাসা—এগুলো ঋণ নয়। এসব হলো বন্ধন। এসব যত বাড়বে, তত বেশি বন্ধনে জড়াতে হবে। এসব শোধ দেওয়ার মতো কিছু না। বাবা–মা, ছোট মা আমাদের যা দিয়ে গেছেন, আমরা কি পেরেছি সেসবের একটি কণাও শোধ করতে? পারিনি। তারা তা চানওনি। তারা আমাদের চির এক বন্ধনে বেঁধে রেখে গেছেন।
বিকেপি/এমএইচএস

