এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। নোবেল কমিটি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত ও সৃজনশীল সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টিতে সাহসী ও অভিনব সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যান কারসনকে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।’
লেখা: অ্যান কারসন, অনুবাদ: ইকতিয়ার হোসাইন
প্রেমের ছোট্ট এক বিষণ্ণ উল্লাস
সারা রাত চোখ বুজে
তোমার সঙ্গে থাকতে আমার ভালো লাগে।
কী সৌভাগ্য—এই তো তুমি,
তারাদের ভেতর দিয়ে
এগিয়ে আসছ!
আমি আমার মন আর হৃদয়জুড়ে
এক দীর্ঘ সফরে বেরিয়েছিলাম,
আর সেখানেই তোমাকে পেলাম—
পথের ধারে হাঁটু গেড়ে বসে,
তোমার ছোট্ট সরঞ্জামের বাক্সটি পাশে,
কী যেন একটা মেরামত করছ।
আমাকে একটা পৃথিবী দাও—
তুমি তো নিয়েছো কেড়ে
একদিন আমি যে পৃথিবী ছিলাম।
সে
সে উত্তরের এক বিরান প্রান্তরে থাকে।
একা।
সেখানে বসন্ত
ছুরির ফলার মতো খুলে যায়।
সারাদিন ট্রেনে চড়ে
আমি অনেক বই নিয়ে যাই—
কিছু মায়ের জন্য, কিছু আমার জন্য,
তার মধ্যে থাকে
দ্য কালেক্টেড ওয়ার্কস অব এমিলি ব্রন্টি।
এই আমার প্রিয় লেখক।
আর আমার সবচেয়ে বড় ভয়ও—
যার মুখোমুখি হব বলে স্থির করেছি।
যখনই মায়ের কাছে যাই,
মনে হয়, আমি ধীরে ধীরে এমিলি ব্রন্টি হয়ে উঠছি—
আমার চারপাশের নিঃসঙ্গ জীবন
এক বিস্তীর্ণ বিরান প্রান্তর,
কাদামাখা ভাটার চরে
আমার বেমানান শরীর
থপথপ করে এগিয়ে যায়,
মুখে রূপান্তরের এক অদ্ভুত ছায়া—
রান্নাঘরের দরজায় পা রাখতেই
যে ছায়া নিভে যায়।
এমিলি,
আজ আমাদের কী মাংস লাগবে?
ব্যথা
লন, মাঠ, পাহাড় আর বিস্তৃত পুরোনো মখমলি
সবুজ হাতা। সবুজ জিনিস। তারা প্রসারিত হয়,
ভাঁজ খায়, গড়িয়ে দূরে সরে যায়, মেলে ধরে নিজেকে
আর চোখকে শান্ত করে। ছবিতে দেখলে কী সজীব লাগে।
সবুজ প্রান্তরেই যুদ্ধ হয়। অথবা তুমি সেখানে
খাবার পেতে বসে খেতে পারো। কী গোপনে তারা শুয়ে থাকে—
দূর বনভূমির মেঝের মতো। এরপর আসে কবর,
সবুজ নিয়ে লেখা কত কবিতাতেই। কিন্তু এটা কোনো কবিতা নয়।
যেন হিমায়িত সবুজ মটরের বিজ্ঞাপনফলক।
হিমায়িত সবুজ মটর ব্যথার জন্য ভালো।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

