নিসআর কর্মীদের ওপর একাধিকবার হামলা, বিচারসহ ৪ দফা দাবি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৫, ১৯:৩০
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) কর্মীদের ওপর একাধিবার হামলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। এজন্য নিসআর তরফ থেকে বিগত সময়ের সবগুলো হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) নিসআর একটি বিক্ষোভ মিছিলের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। সড়ক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলাতেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর কাপ্তান বাজার এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করণ ও যানজট নিরসনের জন্য নিসআ ও ছাত্র-জনতার সহযোগিতায় ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, পুলিশের উপস্থিতিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়, সে অভিযান চলাকালে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতেই নিসআর সদস্যদের ওপর হামলা হয় এবং কয়েকজনকে আহত করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিআরটিএ মিরপুর সার্কেল অফিসে ‘নাগরিক সেবা পরিদর্শন’ কার্যক্রম করতে গেলে সেখানেও বিআরটিএ’র দালাল চক্র পরিকল্পিতভাবে নিসআ সদস্যদের ওপর হামলা করে কয়েকজন সদস্যকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়ে, সর্বশেষ গতকাল বুধবার (৫ মার্চ) ফেনী জেলার সদস্যরা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে সড়ক-মহাসড়ক থেকে অবৈধ থ্রি-হুইলার যানবাহন অপসারণের কাজ করতে গেলে আচমকা আক্রমণের শিকার হন। এতে নিসআর ৯ জন আহত হন। আমরা ক্ষমতালোভী নই, আমরা অর্থলোভী নই, আমরা নিরাপদ সড়ক তথা নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ওয়াদাবদ্ধ। কেবলমাত্র অবৈধ টাকার ভাগ না নেওয়া, প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য নিসআকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। তারা চায় আমরা ভয় পাই, ভয় পেয়ে তাদের সাথে সমঝোতা করি, তাদের অবৈধ টাকা ও পেশিশক্তির আশ্রয়ে গিয়ে দুর্নীতিটাকে যেভাবে চলছে সেভাবে চলতে দিই। কিন্তু আমরা আমাদের ওয়াদার জায়গা থেকে সরব না, শত বাধা আসলেও আমরা কেবল জনতার স্বার্থেই কাজ করে যাব। আমরা প্রতিটি হামলার পর প্রশাসনের মুখাপেক্ষী হয়েছি, তাদের অনুরোধ করেছি যেন ন্যায়বিচার পাই।
নিসআ তার বিবৃতে আরও বলে, অথচ ধারাবাহিকভাবে এই হামলাগুলোর একটিরও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের গণ-মানুষ আশা করেছিলো- এই রাষ্ট্র মাফিয়া-সিন্ডিকেট মুক্ত হবে। কিন্তু আমাদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলার বিচার না হওয়া প্রমাণ করে যে, দেশ এখনো মাফিয়া-সিন্ডিকেট মুক্ত হয়নি এবং আমাদের দেশের প্রশাসন এদের প্রতিরোধ করতে পারে না কিংবা প্রতিরোধ করতে চায় না। এই উপর্যুপরি হামলা এবং পরবর্তী বিচারহীনতা দেশের বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফুটিয়ে তোলে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা আমাদের প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। ২০১৮ সাল থেকেই নিসআ এই সড়ক পরিবহন খাতে দালাল, দখলদার ও মাফিয়া সিন্ডিকেটমুক্ত নিরাপদ সড়ক করার বারংবার বাধাগ্রস্ত হয়েও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর থেকে মানুষ আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে সড়কে জমায়েত তৈরি করে, তখনও নিসআ সদস্যরা সড়কে নেমে আবার সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য ট্রাফিক কন্ট্রোল, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখে, আমরা নিশ্চিত করেছি কারো আনন্দে, নিরাপত্তায় বাধা যেন না আসে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সারাদেশে এসব উপর্যুপরি ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা সিন্ডিকেটের তাবেদারি ছাড়েন। নিসআ সদস্যদের ওপর হামলা থেকে শুরু করে যারাই বিভিন্ন উপায়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দুর্নীতির দুষ্টচক্র বজায় রেখেছে, জনতাকে সহজে নাগরিক সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করুন। আপনারা এ দেশের জনতার টাকায় বেতন পান, তাদের অধিকার রক্ষা করা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আপনাদের কাজ। আপনাদের শক্তি যেন আর কোনোদিন জনতার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়। আপনারা যেন দুর্নীতিবাজ দালালদের রক্ষাকর্তা হয়ে না উঠেন সেদিকে নজর রাখবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আজকের এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই এভাবে হামলা করে, বাধা দিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা নিরাপদ সড়ক ব্যাবস্থা তথা নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম বজায় রাখব। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। যদি আমাদের একজনও সদস্য বেঁচে থাকে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের লড়াই জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ।
নিসআর দাবিসমূহ-
১. ফেনীসহ সারাদেশে নিসআর সদস্যদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
২. সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে সড়কের চাঁদাবাজ, দালাল, দখলদার ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. নিরাপদ সড়কের ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
ডিআর/বিএইচ

