শেখ মুজিবসহ ৪ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হচ্ছে
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ১৬:২৫
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদের (এমএনএ বা এমপিএ) বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হতে যাচ্ছে। তাদের পরিচয় পরিবর্তিত হয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে।
এই নেতারা ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত নন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) দৈনিক সমকালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই পদক্ষেপের প্রস্তাবটি বিদ্যমান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের চূড়ান্ত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত কার্যপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। খসড়ার খসড়া অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি আরও চার শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে সংশোধন করা হবে।
খসড়া অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পাবেন যারা-
- বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করা পেশাজীবী বাংলাদেশিরা।
- মুজিবনগর সরকারের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দূতাবাস কর্মী।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলী এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কাজ করা সাংবাদিকরা।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই খসড়া কার্যকর হলে অন্তত ১০,০০০ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় বদলে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হবে, তবে তাদের সুবিধা ও মর্যাদা অপরিবর্তিত থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে থাকবেন না, তবে তাদের স্বীকৃতির মর্যাদা আগের মতোই থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাদের অবদানের প্রতি সম্মান রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘এটি ইতিহাসের সত্যকে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের অবদানকে অস্বীকার করা উচিত নয়। এমন পরিবর্তন দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করবে।’
মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল মনে করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনেক অংশ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ছিল। তবে এমএনএ বা এমপিএদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় বাতিল করা উচিত নয়।’
- এমজে

