Logo

জাতীয়

সড়ক ও রেলপথে স্বস্তির ঈদযাত্রা, জৌলুস ফিরেছে সদরঘাটে

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৫, ১২:১০

অ
সড়ক ও রেলপথে স্বস্তির ঈদযাত্রা, জৌলুস ফিরেছে সদরঘাটে

অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা সর্বোচ্চ নিরাপদ ও স্বস্তির। যানজট নেই, নেই অতিরিক্ত ভাড়ার খড়গ। সড়কে নেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, ট্রেনে নেই শিডিউল বিপর্যয়। পদ্মা সেতু চালুর পর জৌলুস হারানো নৌপথেও এবার জৌলুস ফিরেছে। সেখানেও নেই ভোগান্তি। 

প্রশাসনের কড়া নজরদারি আর সড়কপথে ভোগান্তি এড়ানোর তৎপরতায় এবারের যাত্রা স্বস্তির হচ্ছে বলে মনে করছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

ঈদযাত্রার ৬ষ্ঠ দিনের শুরু থেকেই আজ শনিবার কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে, অতীতের ঈদযাত্রায় যে চরম ভোগান্তির অভিজ্ঞতা হতো যাত্রীদের, এবার তার ব্যতিক্রম। রেলপথের যাত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তির ছাপ। ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়নি। সাধারণত ঈদের সময় স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেলেও এবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রীরা ট্রেনে উঠছেন। যাত্রীরা নিজেদের নির্ধারিত টিকিটের আসনে বসতে পারছেন।

সড়ক পথেও একই অবস্থা। ছোটোখাটো জটলা ছাড়া বড় ধরনের যানজট-ভোগান্তির তথ্য পাওয়া যায়নি কোথাও।

যাত্রীরা বলছেন, অতিরিক্ত ভাড়ার খড়গ নেই এবার। এ জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভূমিকার প্রশংসা করছেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, বাস কাউন্টারগুলোতে অধিদপ্তরের অভিযানের ফলে এবার চাপে রয়েছে বাস কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই গাবতলীতে ভিড় কিছুটা বাড়লেও ভোগান্তি নেই বলে জানা গেছে।

আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কুমিল্লা অঞ্চলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কেও ম্যাজিস্ট্রেটরা শনিবার সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিমও এলাকাভেদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে যানজট,  অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ কোথাও কোনো অনিয়মের খবর মেলেনি। 

উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যমুনা সেতুতে ওটার আগেই গত বছরও যে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি এবার নেই। সিরাজগঞ্জের ৪৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কে নেই সেই চিরচেনা যানজটের চিত্র। ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।

বেলা ১২টার দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। অতীতে যেমন বাসের সংকট দেখা দিত, যাত্রীদের জটলা বেঁধে যেত, এবার সেটি নেই। পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, যানজট না থাকায় বাস যথাসময়ে কাউন্টের পৌঁছাতে পারছে। এতে সংকট তৈরি হচ্ছে না। 

তবে সকাল থেকেই বাস ও ট্রেনের পাশাপাশি সদঘরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা গেছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে সারাবছরই লঞ্চে যাত্রীখরা চললেও ঈদ এলে একটু আশায় বুক বাঁধেন লঞ্চ মালিকরা। এবার খরা কাটিয়ে প্রাণ ফেরার অপেক্ষায় লঞ্চযাত্রায়।

ঈদযাত্রা নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশনা, অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা বাড়তি যাত্রী নিলেই কেড়ে নেওয়া হবে লঞ্চের লাইসেন্স। ফলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ভিড়কে তারা জৌলুস হিসেবেই দেখছেন। পদ্মা সেতু চালুর পর এবারই প্রথম জৌলুস ফিরে পেয়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। 

এনএমএম/এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন