Logo

জাতীয়

ইশরাককে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চে বাধা

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৫, ১৩:১০

অ
ইশরাককে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চে বাধা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৭ মে) সাড়ে ১১টার দিকে গুলিস্তানের নগর ভবনের সামনে থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়।

লংমার্চটি গুলিস্তান মাজার, জিরো পয়েন্ট, পল্টন ঘুরে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তারা মিছিলসহ আবার নগর ভবনের সামনে ফিরে আসেন।

এর আগে, সকালে নগর ভবন অবরুদ্ধ করে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইশরাক হোসেনের অনুসারীরা। সকাল থেকেই নগর ভবনের সব গেট বন্ধ করে সাধারণ কর্মচারীরাও কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এতে ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।

লংমার্চে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ জনতা ‘আসিফের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শপথ নিয়ে টালবাহানা চলবে না’, ‘অবিলম্বে ইশরাক হোসেনের শপথ চাই’, ‌‘জনতার মেয়র ইশরাক ভাই, অন্য কোনো মেয়র নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা বিক্ষোভকারী নাসরিন আক্তার বলেন, ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ হলেও তাকে শপথ পড়ানো হচ্ছে না। তাই সচিবালয় ঘেরাও করতে এসেছি।

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর থেকে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, মশা, ময়লা-আবর্জনার যন্ত্রণা বেড়েছে। মেয়র না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। ইশরাককে জনগণ ভোট দিয়েছে, তবুও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না—এটা গণরায়কে অস্বীকার করার শামিল।

বংশালের ফজলুল হক বলেন, ইশরাক জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাকে দ্রুত শপথ পড়ানো না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।

উল্লেখ্য, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭ মার্চ রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। রায়ের কপি পাওয়ার পর ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চায়। এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

পরদিন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার আগেই ইসি গেজেট প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় ৫ মে স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে জানায়, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবে কিনা তা জানাতে হবে। তবে ১৩ মে ইসি জানায়, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে না।

এরপরও কেন শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, যতদিন না ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো হবে, ততদিন রাজপথ ছাড়বেন না।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন