ভোটে পর্যবেক্ষক হতে এইচএসসি পাস ও ২১ বছর নির্ধারণ, নীতিমালা জারি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫, ১০:২৪
এআই দিয়ে তৈরি ছবি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নীতিমালায় পর্যবেক্ষক হওয়ার বয়সসীমা ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ২১ বছর করা হয়েছে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি থেকে বাড়িয়ে এইচএসসি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম এ তথ্য জানান।
নতুনভাবে জারি করা ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নিবন্ধিত ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।
নীতিমালার ৪.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন করে সংস্থা নিবন্ধনের জন্য ১৫ দিন সময় দিয়ে দৈনিক পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। পর্যবেক্ষণে আগ্রহী সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশন সচিবালয়ে তা জমা দিতে হবে। ফরমে উল্লিখিত সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। আগের নীতিমালায় ১৫ দিনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।
৭.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক পর্যবেক্ষককে এইচএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ফরম ইও-২ এবং ইও-৩ দাখিল করতে হবে। আগের নীতিমালায় এসএসসি সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।
পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন সংক্রান্ত ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচনের আগের দিন, নির্বাচনের দিন এবং পরের দিন—এই তিন দিন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করতে পারবে। ২০২৩ সালের নীতিমালায় এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্টতা ছিল না।
এ ছাড়া অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা সম্বলিত ‘পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র’ ভোটগ্রহণের ন্যূনতম তিন দিন আগে সরবরাহ করবে নির্বাচন কমিশন। আগের নীতিমালায় নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ ছিল না।
নীতিমালার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ‘বিবিধ’ অংশে বলা হয়েছে, এই নীতিমালার কোনো বিষয়ে বিতর্ক হলে সংশ্লিষ্ট আইন-বিধি প্রাধান্য পাবে। এই নীতিমালার কোনো নীতিই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন যে কোনো সময় এই নীতিমালার সংযোজন, বিয়োজন, সংশোধন বা বাতিল করতে পারবে।
১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা রহিত করা হলো এবং সেই অধীন নিবন্ধিত সব সংস্থার নিবন্ধন বাতিল ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।
এসআইবি/এমএইচএস

