জুলাই অভ্যুত্থান : ডিএমপির ৭০৭ মামলায় আসামি পাঁচ হাজারের বেশি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৫, ২১:১৪
ছবি : সংগৃহীত
২০২৫ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটে যায় ইতিহাসের এক মোড় ঘোরানো ঘটনা। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। সেই সময়কার সহিংসতা ও প্রাণহানির মাত্রা ছিল নজিরবিহীন।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই আন্দোলনে অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ২৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন। যার মধ্যে সাধারণ নাগরিক, আন্দোলনকারী, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন।
আন্দোলনের সময় সশস্ত্র হামলা, গুলি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর ৫০টি থানায় এখন পর্যন্ত দায়ের হয়েছে ৭০৭টি মামলা। এসব মামলার আসামির তালিকায় আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
মামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ডা. দীপু মনি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি মমতাজ বেগম, এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, আব্দুস সোবহান গোলাপ ও আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশাসহ মোট ৫ হাজার ৭৯ জন নেতাকর্মীকে।
শুধু রাজনীতিকই নন, নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও আছেন এ মামলার আসামির তালিকায়। গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক দুই পুলিশ মহাপরিদর্শক, মো. শহিদুল হক ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়াও ধরা পড়েছেন সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন থানার সাবেক ওসি, ডিসি, এসপি, এডিসি, এএসপি, এসআই ও কনস্টেবলসহ মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্য।
প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি (প্রশাসন) মাঈন উদ্দিন চৌধুরীর দেয়া তথ্যমতে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তিনি জানান, মামলাগুলোর অভিযোগপত্র প্রণয়ন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পুলিশ ও প্রসিকিউশন একসাথে কাজ করছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের মামলা সংখ্যা, আসামির তালিকা ও গ্রেপ্তারের বিস্তৃত প্রক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে চলেছে। যার রেশ হয়ত আগামী বহু বছর ধরেই টানতে হবে।
- এনএমএম/এমআই

