Logo

জাতীয়

সীমান্তে অনুমতি ছাড়া উন্নয়নকাজ নয়, হত্যা রোধসহ নতুন নানা অঙ্গীকার

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৫২

সীমান্তে অনুমতি ছাড়া উন্নয়নকাজ নয়, হত্যা রোধসহ নতুন নানা অঙ্গীকার

চার দিনব্যাপী টানা আলোচনা-সমঝোতার পর সীমান্ত হত্যাকাণ্ড রোধ, অনুপ্রবেশ ঠেকানো, চোরাচালান দমন ও সীমান্ত শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন করে অঙ্গীকার করল বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। 

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় যৌথ দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তার নেতৃত্বে ২১ সদস্যের দলে ছিলেন বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন, সড়ক, ভূমি জরিপ, যৌথ নদী কমিশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি। অপরদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক দালজিৎ সিং চৌধুরী, আইপিএস-এর নেতৃত্বে ভারতের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল যোগ দেয়।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও আহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক সীমান্ত হত্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল বাড়ানোর আশ্বাস দেন। উভয়পক্ষ যৌথ সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও সীমান্ত অপরাধ দমন নিয়ে একমত হয়।

বিজিবি অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিক ও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (FDMN) বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনায় উদ্বেগ জানায়। বিএসএফ জানায়, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পারস্পরিক প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।

স্বর্ণ, জাল মুদ্রা, অস্ত্র-গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও মাদকের প্রবাহ বন্ধে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP) আরও কার্যকর করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। পাচারকারীদের বিষয়ে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, সীমান্ত স্তম্ভ উচ্ছেদসহ অন্যান্য অপরাধ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী জনগণকে সচেতন করতে যৌথ উদ্যোগে সম্মত হয় উভয় বাহিনী।

শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে পূর্ব অনুমতি ছাড়া উন্নয়ন কাজ না করার বিষয়ে সম্মতি হয়। একই সঙ্গে যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নদী তীর সংরক্ষণকাজ সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় তিনবিঘা করিডরের মাধ্যমে দহগ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ দ্রুত শেষ করতে ভারতের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করার আশ্বাস দেন বিএসএফ মহাপরিচালক।

আন্তঃসীমান্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠী দমনে উভয়পক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে। রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে এদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পক্ষ ফেনীর মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ এবং ইছামতি, কালিন্দী, রায়মঙ্গল ও হারিয়াভাঙ্গা নদী এলাকায় সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানায়। ভারতীয় পক্ষ আশ্বাস দেয় বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উত্থাপন করা হবে।

ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে ভাগাভাগি করার বিষয়ে একমত হয় দুই বাহিনী। পাশাপাশি সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বিভ্রান্তিকর প্রচার বা গুজব ঠেকাতে গণমাধ্যমকে সচেতন করার প্রতিও জোর দেওয়া হয়।

সম্মেলনের ফলাফলে উভয় মহাপরিচালক সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অপরাধ দমন ও আস্থা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এনএমএম/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বিজিবি বিএসএফ সীমান্ত ভারত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর