আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গণতান্ত্রিক আচরণের আহ্বান ৪৬ নাগরিকের

বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৮:৩১

প্রতীকী ছবি
সমাবেশ ও মিছিলে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৪৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গণতান্ত্রিক আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধীরে ধীরে সক্রিয় হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সমাবেশ, জমায়েত ও মিছিলে অযথা বলপ্রয়োগের ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হচ্ছে এবং জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের মিছিলে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও পিলেট বুলেট ব্যবহারের ঘটনা উদ্বেগের। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও।
নাগরিকরা বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের সমালোচনা ও ডিএমপি কমিশনারের দুঃখ প্রকাশ সত্ত্বেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর যৌথ বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তারা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হবে মানবিক ও জনবান্ধব। কিন্তু সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশা ভঙ্গ হচ্ছে।’
বিবৃতিতে সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিয়ন্ত্রণে গণতান্ত্রিক পন্থা অনুসরণের দাবি জানানো হয়। বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জননিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় থাকার পাশাপাশি অযথা বলপ্রয়োগ, গায়েবি মামলা ও ভিন্নমতের দমন থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন— কবি কাজল শাহনেওয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, প্রবাসী লেখক ও নৃবিজ্ঞানী সায়েমা খাতুন, অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জি এইচ হাবীব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ আল মামুন, লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান, নির্মাতা আশফাক নিপুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌভিক রেজা, মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন, লেখক ও সম্পাদক রাখাল রাহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আর রাজী, লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশরেকা অদিতি হক, শিল্পী অমল আকাশ, শিল্পী এএইচ চঞ্চল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মারুফ মল্লিক, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, কবি ও সংগঠক চিনু কবির, বিজ্ঞানী মাহবুব সুমন, লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মাহমুদ, কবি ও অধিকার কর্মী ফেরদৌস আরা রুমী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়মা আলম, প্রকাশক মাহাবুব রাহমান, প্রকাশক সাঈদ বারী, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ, পরিবেশকর্মী আবুল কালাম আল আজাদ, কথাসাহিত্যিক গাজী তানজিয়া, কবি ও সংগঠক মোহাম্মদ রোমেল, কথাসাহিত্যিক অস্ট্রিক আর্যু, পরিবেশবিদ মোহাম্মদ আরজু, সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন, কবি ও লেখক তুহিন খান, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ, লেখক সালাহ উদ্দিন শুভ্র, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট সাদিক মাহবুব ইসলাম, গবেষক শাহাদাৎ স্বাধীন, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট পারভেজ আলম, কবি নকিব মুকশি, কবি হাসান জামিল, কবি অর্বাক আদিত্য, রাজনৈতিক কর্মী উৎসব মোসাদ্দেক, সাংবাদিক আরাফাত রহমান, প্রকাশক দীপক কুমার রায়, কবি মিসবাহ জামিল এবং গবেষক রাহুল বিশ্বাস।
এমএইচএস