Logo

জাতীয়

নিয়ম ভেঙে বিদেশ সফর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:১৬

নিয়ম ভেঙে বিদেশ সফর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

সরকারি নিয়ম অমান্য করে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে শুধু সরকারি বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে না, দাপ্তরিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি পাঁচটি নির্দেশনা জারি করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থা সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত। বিধি অনুযায়ী এসব আমন্ত্রণপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর বা সংস্থার প্রধানের কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এছাড়া একই সময়ে একই দপ্তর বা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা বিদেশে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শুধু নিয়মের ব্যত্যয় নয়, অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে।

জারি করা পাঁচ দফা নির্দেশনা 

১. কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের সচিব বা দপ্তর/সংস্থার প্রধানের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে।

২. ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশি আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করা যাবে না।

৩. বিদেশ যাত্রার আগে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে বিধি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

৪. বিদেশি সংস্থার আমন্ত্রণে অংশগ্রহণের আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবের এবং দপ্তর/সংস্থায় কর্মরতরা সংশ্লিষ্ট প্রধানের অনুমতি নিতে বাধ্য থাকবেন।

৫. বিদেশি সংস্থা থেকে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রের ক্ষেত্রে ইভেন্ট বা সভা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজ, পেশাগত উন্নয়ন ও জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না তা বিশ্লেষণ করেই অনুমতি দেওয়া হবে।

দাপ্তরিক কাজ বিঘ্নিত 
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশ সফরে যাওয়া নিয়ে অনিয়মের কারণে দাপ্তরিক কাজের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও কাজ থেমে যাচ্ছে। একই সময়ে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা বাইরে গেলে কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি বিধান মেনে না চললে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সকল কর্মকর্তাকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর যদি নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সময় অপচয় হয়। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হওয়ায় জনসেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এনএমএম/এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন