Logo

জাতীয়

ভোটে অবহেলা ও অনিয়মে শাস্তি বাড়ল, মতবিরোধ হলে প্রাধান্য ইসির

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৩

ভোটে অবহেলা ও অনিয়মে শাস্তি বাড়ল, মতবিরোধ হলে প্রাধান্য ইসির

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে দুটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। পাশাপাশি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে কমিশনের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেওয়ার নিয়মও এতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এর মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আরও জোরদার হলো। একই সঙ্গে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে, দায়িত্বে অবহেলা করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘন করলে তাকে অসদাচরণকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে চাকরি থেকে অপসারণ, বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি বা পদোন্নতি-বেতন বৃদ্ধি সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য স্থগিত করা যেতে পারে।

এ ছাড়া কমিশন বা রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজন মনে করলে তাকে দুই মাস পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশও দিতে পারবেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কমিশনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তা কমিশনকে জানাতে হবে। শাস্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি ও বার্ষিক গোপন প্রতিবেদনেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অধ্যাদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো বিধান নিয়ে মতবিরোধ হলে কমিশনের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাবে।

এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিধান কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে।

দণ্ডের পরিধি বাড়ল 
অসদাচরণের জন্য কোনো নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বা কমিশনের আদেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

  • কমিশনের আদেশ প্রতিপালন না করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
  • নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম করলে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের অক্টোবরে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বন্ধের পরও তৎকালীন ইসি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতেই এবার শাস্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ সংশোধন করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

এসআইবি/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

নির্বাচন কমিশন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন