জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:২৫
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণে গণভোটের পদ্ধতি ও সময়সূচি ঠিক করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে বৈঠকটি শুরু হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইস্যুতে এটি কমিশনের পঞ্চম বৈঠক। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। বৈঠক এখনো চলছে।
বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণসহ আগামী ১০ তারিখের মধ্যেই গণভোটের প্রক্রিয়া ও দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে সরকারকে প্রস্তাব দিতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।’
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চলতি মাসের ১৫ বা ১৬ অক্টোবর তারিখে জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলেও গণভোটের সময়সূচি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।
বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের দিনই ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখার বিপক্ষে।
গণভোটের এই ভিন্ন অবস্থানের কারণে কমিশন বুধবার সকালে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পুনরায় বৈঠক করে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে মতামত নিয়েছে।
কমিশন সূত্র জানায়, দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য না হলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে একাধিক বিকল্প সুপারিশ পেশ করা হবে।
ঐকমত্য কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায় এখন পর্যন্ত ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে মৌলিক সংস্কারের ৯টি বিষয়ে এখনও আপত্তি রয়েছে। ফলে সনদের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত সনদে দলগুলোর স্বাক্ষরের তারিখ নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত ঘোষণা, বাস্তবায়ন কমিটি গঠন, এবং জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর শেষ হবে। তাই কমিশনের হাতে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি ও সরকারে জমা দেওয়ার জন্য সময় আছে মাত্র ৭ দিন।
এনএমএম/এএ

