ক্ষমতার পালাবদলে যেন দুর্নীতির পালাবদল না হয় : বদিউল আলম
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:০৩
ছবি : বাংলাদেশের খবর
‘ক্ষমতার পালাবদলে যেন দুর্নীতির পালাবদল না হয়’— এমন আহ্বান জানিয়েছেন সুজনের সম্পাদক ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্নীতির পালাবদল ঘটলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যাবে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলেই গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আমরা দেখেছি, ক্ষমতার সঙ্গে যেন জাদুর কাঠি যুক্ত ছিল। ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্য, মেয়র ও চেয়ারম্যানদের সম্পদ আকাশচুম্বি হয়েছে—এটা বন্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেও স্বৈরাচারী কাঠামো, আইন ও প্রশাসনিক নিয়ম এখনো বহাল রয়েছে। এসব কাঠামোই তাকে স্বৈরাচার বানিয়েছিল। চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় এসব কাঠামো ভাঙতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কেবল নির্বাচন দিয়ে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান সম্ভব নয়। সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই গণতন্ত্র টিকে থাকবে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এই নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে।’
ড. মজুমদার সতর্ক করে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তবে তাদের পরিণতিও শেখ হাসিনার মতো হতে পারে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই স্বৈরাচারী কাঠামোর বিলোপ ঘটবে।’
এছাড়া তিনি জানান, আগামী নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট হবে কি না—তা বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে প্রস্তাব দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘জুলাই সনদ এখন সিলভার লাইন থেকে গোল্ডেন লাইনে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। যারা দিনের ভোট রাতে করেছে, বিনা ভোটে ক্ষমতায় থেকেছে, তাদের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৫ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জুলাই সনদ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। যদি রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে তা ব্যাহত হয়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।’
ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় তেজগাঁও কলেজ ও প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা যৌথভাবে বিজয়ী হয়। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুল আলম, মো. হুমায়ুন কবীর ও জাকির হোসেন লিটন। বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
এসআইবি/এমবি

