Logo

জাতীয়

জুলাই সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পৌঁছেছে

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১২

জুলাই সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পৌঁছেছে

বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর কাছে বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রায় ৪০ পৃষ্ঠার এই সনদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও পটভূমি সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা। পাশাপাশি ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল কায়েমের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত।

সনদে বলা হয়েছে, ‘১৯৭৮ সালে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ আবারও গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করে। তবে সেই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।’

এতে বিশেষভাবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে ব্যবহার, তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) ও নির্বাচনি ব্যবস্থার ধ্বংস, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের বিষয়গুলোও উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, আইনসভা, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি বিষয়ে রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও জনসাধারণের মতামত সন্নিবেশিত হয়েছে।

সনদের সর্বশেষ অংশে সাতটি বাস্তবায়নযোগ্য পয়েন্টসহ একটি অঙ্গীকারনামাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করবেন। স্বাক্ষরকারীরা এই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং এটি সংবিধানে যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করতে অঙ্গীকার করবেন।

অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরকারীরা গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিপীড়িত ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান ও বিদ্যমান আইন সংশোধন, নতুন আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়নের বিষয়গুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গঠন করা হয়। কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে। তিন ধাপে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ শেষে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ অবশেষে চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে এবং আগামী ১৭ অক্টোবর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হবে।

এর আগে ১৬ আগস্ট রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো খসড়ায় কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় তা সংশোধন করে নির্ভুল খসড়া প্রেরণ করা হয়। সর্বশেষ ২০ আগস্ট কমিশন খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার সময় ২২ আগস্ট বিকেল তিনটা পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

এই সনদ দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিশানির্দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জুলাই সনদ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন