গণভোটের সিদ্ধান্ত সরকারের এখতিয়ার, নির্বাচন কমিশনের নয় : ইসি সচিব
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ২১:০৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার(৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো সংস্কার থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার সেবা, পর্যবেক্ষক ব্যবস্থাপনা, বাজেট, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মনিটরিং-সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
রাজনৈতিক দলের নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের দাবি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা শুনেছি, একটি দল নভেম্বরে গণভোট চেয়েছে। তবে গণভোটের সিদ্ধান্ত সরকারের এখতিয়ার, নির্বাচন কমিশনের নয়। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কমিশন কেবল তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনের সঙ্গে দেখা করছে, দাবি জানাচ্ছে-এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এতে কমিশন কোনো চাপ অনুভব করছে না।’
অবকাঠামো ও প্রস্তুতি
আখতার আহমেদ জানান, ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিদ্যালয়-কলেজগুলোর অবকাঠামো ও রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘অনেক জায়গায় কাদা ও ভাঙা রাস্তা থাকায় ভোটের দিনে সমস্যা হয়। স্থানীয় সরকার, শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রকৌশল বিভাগকে যৌথভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে,’ বলেন সচিব।
তিনি জানান, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবার সরকারি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও এই প্যানেলে থাকবেন।
ভোট পরিবহন ও তদারকিতে হেলিকপ্টার সার্ভিস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী বা অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় উপজেলা পর্যায়ে হেলিপ্যাড চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
প্রচারণা ও সচেতনতা
জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও সংসদ টেলিভিশন যৌথভাবে প্রচারণা চালাবে। ‘সংসদ টেলিভিশনের এয়ার টাইম ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ভোট-সংক্রান্ত তথ্য সম্প্রচার করা যায়,’ বলেন ইসি সচিব।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা প্রাপ্তিতে বিলম্ব না হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ও কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি
ইসি সচিব বলেন, ‘বাজেট সাশ্রয়ী রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ যেন না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিকেল টিম গঠন করবে, যাতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘ভোট গণনার সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ফেব্রুয়ারিতে ভোট হলে তা যেন এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে না মিলে, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আগাম জানানো হয়েছে।
গুজব, ভুল তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে। ‘১৬ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের ট্রায়াল অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে, যা ভোট-সংক্রান্ত তথ্য ও মনিটরিংয়ে সহায়তা করবে,’ বলেন সচিব।
প্রতীক পরিবর্তন ও চূড়ান্ত লক্ষ্য
‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত করার বিষয়ে সচিব বলেন, ‘কিছু প্রতীক নিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিরূপ মন্তব্য এসেছে। কমিশন মনে করেছে কিছু প্রতীক বাদ দিয়ে নতুন কিছু যোগ করা দরকার। এটি কমিশনের স্বাধীন সিদ্ধান্ত, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নয়।’
সবশেষে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা দিন-রাত এক করে কাজ করছি, প্রয়োজনে শনিবারও অফিস করছি। লক্ষ্য একটাই-একটি ত্রুটিমুক্ত, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।’
- এসআইবি/এমআই

