আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সকালেই প্রকাশিত একটি বার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে।
ঘোষণার সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত টিজার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ৪৮ সেকেন্ডের টিজার ভিডিওতে ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়। নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রশাসন ও তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। অনেক আগে থেকে দলগুলো মাঠ গোছানো ও প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে। নির্বাচনি জোট গঠনের প্রস্তুতিও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। যদিও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ প্রকাশ্যে।
বার্তা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমরা সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যাব। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের দেশের মালিকানা পুনরায় ফিরে পাবেন।
টিজার ভিডিওতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম ও বিডিআর বিদ্রোহ হত্যাকণ্ডের ঘটনার তদন্তের সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ড. খান সুবায়েল বিন রফিক সবাইকে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি এই নির্বাচনের গুরুত্বকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
টিজার ভিডিওটি ২০২২ সালে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যও দেখিয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, যখন আমি নয়াদিল্লি গিয়েছিলাম, আমি ভারতীয় সরকারকে বলেছিলাম যে শেখ হাসিনাকে সমর্থন করা আবশ্যক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং সত্যিকারের কমিউনালিজমমুক্ত দেশ হবে। এরপর টিজার ভিডিওতে দেখা যায় অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন খান সুবায়েল বিন রফিককে সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে, সব অতীতের অধ্যায়কে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে। কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে আপনাদের দেশের মালিকানা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে। নির্বাচন ২০২৬-দেশের চাবি আপনার হাতে। আপনারা ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান।
৪৮ সেকেন্ডের ক্লিপটি ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’- স্লোগান দিয়ে শেষ হয়।
প্রচারণা ঘোষণার বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে, নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, এই পোস্টটি সম্ভবত সরকার তাদের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পর তাৎক্ষণিক প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাই হোক, এই পোস্ট নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ই সম্ভবত আরও ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ঘোষণা এলো এমন এক দিনে যখন ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সময় পূর্ণ নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিন বাহিনী প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খালিলুর রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তিন বাহিনী প্রধান উপদেষ্টাকে নির্বাচনের জন্য বাহিনী কর্তৃক নেওয়া সমগ্র প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেছেন। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৯০ হাজার সেনা সদস্য, আড়াই হাজারের বেশি নৌবাহিনীর সদস্য ও দেড় হাজার বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি পরিষেবা সংস্থা স্থাপন করা হবে।
আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, আজ সকালে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক রয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা জানাতে সংবাদ সম্মেলনটি ডাকা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় আজ সোমবার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এদিন সকালে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক রয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, যা জানাতে সংবাদ সম্মেলনটি ডাকা হয়েছে।
বিকেপি/এমবি

