Logo

জাতীয়

জানাজায় ঐতিহাসিক সম্মান

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৯

জানাজায় ঐতিহাসিক সম্মান

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে রাজনীতিতে এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই নিজ পরিচয়ে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন বেগম খালেদা জিয়া। প্রতিকূলতা, কারাবাস, দীর্ঘ অসুস্থতা ও রাজনৈতিক সংঘাত পেরিয়ে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত লাখো মানুষের অশ্রুসজল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক গভীর শূন্যতা। তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল প্রমাণ করেছে—তিনি কেবল একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, সময়ের ব্যবধানে হয়ে উঠেছিলেন জাতীয় নেত্রী।

জনসমুদ্রে রূপ নেয় মানিক মিয়া এভিনিউ

বুধবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার জানাজা। নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ঢল। উত্তর দিকে জাহাঙ্গীর গেট, পশ্চিমে মিরপুর রোড এবং পূর্বে ফার্মগেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর পর্যন্ত মানুষ কাতারবন্দি হয়ে জানাজায় অংশ নেন।

বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জানাজা শুরু হয়ে শেষ হয় ৩টা ৫ মিনিটে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজা পড়ান। জানাজার সময় পুরো এলাকা পিনপতন নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান ও সৌদি আরবসহ ঢাকায় নিযুক্ত ৩০টির বেশি দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন। বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে তাঁরা বাংলাদেশের মানুষের এই আবেগঘন মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেন।

মরদেহ বহন ও দাফন


বুধবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজিং গাড়িতে খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানে নেওয়া হয়। পথে দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাঁকে শেষ বিদায় জানান।

জানাজা শেষে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে বনানী কবরস্থানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

শোক ও প্রতিক্রিয়া

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বক্তব্যে বলেন, চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের পর তাঁর বিদায়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্ত হলো এক শোকাবহ অধ্যায়।

এনএ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বেগম খালেদা জিয়া

বিদায় খালেদা জিয়া

আরও পড়ুন
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর