গণপ্রতিরক্ষার শক্তিশালী স্তম্ভ ভিডিপি: সুবর্ণজয়ন্তীতে মহাপরিচালক
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৬
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম অঙ্গ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি)-এর ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ভিডিপি দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি ভিডিপিকে গণপ্রতিরক্ষার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ভিডিপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।’
মহাপরিচালক বলেন, ‘গ্রাম ও নগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের একটি বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এই সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে তিনি ভিডিপির সকল সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।’
ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা, সামাজিক অপরাধ দমন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ নানা সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে ভিডিপি সদস্যরা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।’
সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘আধুনিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং আনসার–ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ ঋণ সুবিধার মাধ্যমে ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় ভিডিপি সদস্যরা কৃষি, মৎস্য ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি তৃণমূল অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিটাক ও সহজ ডটকমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে সহায়ক হবে।’
মহাপরিচালক বলেন, ‘বহুল প্রত্যাশিত ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১২টি জেলার ১২টি উপজেলায় চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
ভিডিপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে সকল সদস্যকে আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ এভিএমআইএসের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি। এর ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো, কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে ভিডিপির যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক, উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক ভিডিপি সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন।
এনএ

