নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন প্রস্তুতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, নির্বাচন আর মাত্র তিন সপ্তাহ দূরে। এ কারণে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিন বাহিনী প্রধান, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে ৩০০ আসনেই একই দিনে ভোটগ্রহণ হবে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, সেটিও দূর হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সব আসনে একযোগে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মধ্যরাত থেকেই পোস্টাল ব্যালট ছাপা শুরু হবে এবং পরদিন সকাল থেকে তা পূর্ণমাত্রায় চলবে।
নির্বাচন পরিচালনায় এবার ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকসহ মোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৯৮ জন।
মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৮৪২ জন। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে করা ৬৪৫টি আপিলের মধ্যে ৪২৫টি মঞ্জুর হয়েছে।
সারা দেশে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি এবং ভোটিং বুথ ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটের আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়ে মোট আট দিনের জন্য বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং ও জরুরি সংকেত পাঠানো সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। এক লাখের বেশি সেনাসদস্যের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। নতুন উদ্যোগ হিসেবে ব্যবহার করা হবে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন যেন নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয় এবং দেশবাসী গর্ব করে বলতে পারে— এটি একটি গ্রহণযোগ্য ও ভালো নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বাসস/এসএসকে/

