নির্বাচনী প্রচারণা শুরু আজ : পোস্টারবিহীন প্রথম নির্বাচন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৯
গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। দেশের ২৯৮টি সংসদীয় আসনে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচন একটি নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে শুরু হলো— এই প্রথম কোনো ধরনের পোস্টার ছাড়াই চলবে নির্বাচনী প্রচারণা।
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার মোড়, গলির মাথা কিংবা গাছে গাছে পোস্টার লাগানো বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। পোস্টারকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কখনোই এটি নিষিদ্ধ ছিল না। কিন্তু গত ১০ নভেম্বর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধিতে সংশোধন এনে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচন থেকে ভোটের প্রচারণায় কোনো দল বা প্রার্থী পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং পরিবেশগত বিবেচনা থেকেই পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসির ভাষ্যমতে, পোস্টার লেমিনেটিং করার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং ব্যবহৃত কালি ফসলের জমির ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও প্রার্থীরা লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু সেগুলো কোনো দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা কিংবা কোনো যানবাহনে লাগানো যাবে না। এছাড়া বিলবোর্ড বা ফেস্টুনে রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
এবারের আচরণবিধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট বা দল সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য প্রচারণা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণাত্মক বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারও চেহারা বিকৃত করা, বানোয়াট তথ্য ছড়ানো কিংবা নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করেও কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না।
সংশোধিত আচরণবিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করা, কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্রহনন কিংবা সুনাম নষ্টের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে— সাধারণভাবে, সম্পাদনার মাধ্যমে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে— মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল বা মানহানিকর কোনো কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না।
এসআইবি/এমএইচএস

