১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ভবিষ্যতের মানদণ্ড : মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি অনন্য মানদণ্ড (বেঞ্চমার্ক) স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে এবং সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এটিই রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস জানান, আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি পাঠাবে। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা ইতিবাচক ফলের জন্য আশাবাদী থাকি।’
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর পদক্ষেপের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক আরও হ্রাস পাবে। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং কৃষি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে চায়। আসিয়ান (ASEAN)-এর সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর আবেদন করেছে। এছাড়া গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে নেওয়া তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই উদ্যোগ এগিয়ে নেবে।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে নতুন শ্রম আইন প্রণয়নকে তিনি সাধুবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারাই জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করতে উন্মুখ।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএস

