ফরহাদ মজহার
বেঁচে থাকতে হলে লুটেরাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার বিকল্প নেই
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৭
কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। ছবি : বাংলাদেশের খবর
কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান কাজ জনগণের জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করা। জনগণকে নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকতে হলে লুটেরা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার বিকল্প নেই।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংকট নিয়ে ‘গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আহমেদ ফেরদৌস, ভাববৈঠকীর সংগঠক মোহাম্মদ রোমেল।
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, ‘জ্বালানি, ব্যাংক এবং আইসিটি খাত থেকে আমলাদের মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে। আগে দেশের ভেতরের টাকা উদ্ধার করুন। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকার কিছুই করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘দেশে একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব ঘটেছে এবং হাসিনাহীন হাসিনা ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল গণসার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ফ্যাসিস্ট আইন বাতিল করতে। কিন্তু বর্তমান সরকার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত। এটি রাজনৈতিক সমস্যা, সমাধানও হতে হবে রাজনৈতিক।’
তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকট মূলত লুণ্ঠনভিত্তিক বিদ্যুৎ চুক্তির ফল। উৎপাদন না করেই বেসরকারি কোম্পানিগুলো টাকা পাচ্ছে— এটাই বর্তমান বিদ্যুৎ খাতের চিত্র। জ্বালানি উপদেষ্টাকে এর জবাব দিতে হবে।’
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘মিনারেল ওয়াটার কিনে খেতে হবে কেন? নদী দখল ও শিল্প দূষণের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্লাস্টিক বাণিজ্যের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশগত বিপর্যয় বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করবেন না। পাকিস্তান মডেলে দেশ চালানোর চেষ্টা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাজা প্ল্যানে নীতিগত সমর্থন দেওয়া জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’
ফরহাদ মজহার বলেন, লুটপাটের রাজনীতি হলো খাতভিত্তিক ভাগাভাগি। আর জনগণের রাজনীতি হলো পানি, জ্বালানি ও গ্যাসের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা। এই দুইয়ের মধ্যে কোনো আপস হতে পারে না।
দেশীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান অবসরপ্রাপ্ত মেজর আহমেদ ফেরদৌস বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বলেন, ‘এই সংকট নিরসনে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের ভূমিকা সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।’ তিনি বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সংগঠক মোহাম্মদ রোমেল বলেন, ‘বাংলাদেশ মিষ্টি পানিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও নদী-খালবিল দখল করে আমাদের পানির আধারগুলো নষ্ট করা হয়েছে। মিষ্টি পানি দুধ বা তেলের চেয়েও দামি। এই সম্পদ আজ ধ্বংসের মুখে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।’
এইচকে/এমবি

