Logo

জাতীয়

দেশে ১২ মাসে এইচআইভি আক্রান্ত ১৮৯১, মৃত্যু ২১৯

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০২

দেশে ১২ মাসে এইচআইভি আক্রান্ত ১৮৯১, মৃত্যু ২১৯

দেশে দিন দিন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি শনাক্তের হার। ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।

গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর এক ২৪ বছর বয়সী তরুণের এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন। তিনি এখন নিয়মিত এআরটি চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের ধারণা, বন্ধুদের সঙ্গে ইনজেক্টেবল ড্রাগ নেওয়ার সময় একই সুচ ব্যবহারের কারণেই তার শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার আরেক এক তরুণ গত বছরের নভেম্বরে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন। চিকিৎসকদের ধারণা, একাধিক সমলিঙ্গীয় সঙ্গীর সঙ্গে যৌন আচরণের মাধ্যমেই তার সংক্রমণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এআরটি সেন্টার থেকে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবা নিচ্ছেন।

রাজধানীর বাইরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যশোরে ২০২৫ সালে ৫০ জনের বেশি মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। তিনি বলেন, ‘এ বয়সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা কম; কিন্তু কৌতূহল অনেক বেশি। সেই কৌতূহল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ শুরু হয়।’ এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে সমলিঙ্গীয় তরুণের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইডস রোগের ভাইরাস এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে দেশে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণের বড় একটি অংশ তরুণদের মধ্যে। ২০২৫ সালে নতুন শনাক্ত এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী। আগের বছর ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তরুণ বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহারে একই সুচ ভাগাভাগি করা, কনডম ছাড়া যৌন আচরণ, একাধিক সঙ্গী এবং যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে নীরবতা ও সামাজিক ট্যাবু।

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউএনএইডসের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান গণমাধ্যমকে বলেন, অবিবাহিতদের মধ্যে যে সংক্রমণ, তাদের বয়স মোটামুটি ২৫ বছরের মধ্যে ধরা যায়। এই বয়সে অনেকেরই একধরনের রোমাঞ্চ থাকে। তারা জীবনকে উপভোগ করতে চান। এই চাওয়ার মধ্য থেকেই তারা কোনো কিছু না ভেবেই বেপরোয়া যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে পড়েন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা এর ঝুঁকির বিষয়টা জানেন না। এই না জানাটা সৃষ্টি হয়েছে অসচেতনতার কারণে। এই যে অল্প বয়সী তরুণদের মধ্যে এইচআইভি ছড়িয়ে যাচ্ছে, তার মূল কারণও সচেতনতার অভাব।

এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর