ভোটে কারচুপি হলেই কেবল জামায়াতের জেতা সম্ভব : শ্রিংলা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২২
ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াতে ইসলামীর জয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কেবল ভোটে কারচুপি হলেই ধর্মভিত্তিক দলটির ক্ষমতায় আসা সম্ভব।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে শ্রিংলা বলেন, “যারা দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার চালাচ্ছেন, তারা নিজেরা নির্বাচিত নন।
এই সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সব রাজনৈতিক দলেরই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না।”
এরপর এক সাংবাদিক মন্তব্য করেন, “নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জয়ী হলে বাংলাদেশ তো তাদের হাতে চলে যাবে।”
এর জবাবে শ্রিংলা বলেন, “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইসলামপন্থি দলটি কখনোই জয়ী হতে পারবে না।
নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ না হয়, যদি কারচুপি হয়, তাহলেই কেবল তারা ক্ষমতায় আসতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশ। তাদের প্রতি জনসমর্থন নেই।”
ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর বিষয়েও সাংবাদিকরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। জবাবে শ্রিংলা বলেন, “বাংলাদেশের খেলতে না আসার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থি; এতে ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যসভার সদস্য শ্রিংলা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যারা আসছে, তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।
এসব অনুপ্রবেশকারী একটি সমস্যা এবং এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি পঙ্কজ শরণের স্থলাভিষিক্ত হন। ঢাকায় আসার আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও মালদ্বীপবিষয়ক দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজের স্নাতক শ্রিংলা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতের করপোরেট ও সেবা খাতেও কাজ করেছেন।
এএস/

