Logo

জাতীয়

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভাতা বাড়ছে, যুক্ত হচ্ছেন আরও ৯ লাখ মানুষ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫২

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভাতা বাড়ছে, যুক্ত হচ্ছেন আরও ৯ লাখ মানুষ

হতদরিদ্র, প্রবীণ, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভাতা ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচির আওতায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ মানুষ।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এদিন অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে এ সভাটি হয়েছে।

সভায় কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত মোট ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কার্যক্রমের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বয়স্ক ভাতা: উপকারভোগী বাড়ছে এক লাখ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক বর্তমানের ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ৯০ বছর ঊর্ধ্ব দুই লাখ ৫ হাজার ব্যক্তিকে মাসিক এক হাজার টাকা ভাতা পাবেন।

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা

মোট ২৯ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতাদের মাসিক ভাতাও ৫০ টাকা করে বাড়ছে। এর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা হারে এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার জন মাসিক এক হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি

প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগী বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা, ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক এক হাজার টাকা পাবেন।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার ৫০ টাকা করে বাড়িয়ে প্রাথমিকে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে এক হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে এক হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চ শিক্ষায় এক হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীরা

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জন করা হয়েছে। আর মাসিক ভাতা বেড়ে ৭০০ টাকা হয়েছে।

এছাড়া অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা তিন হাজার ১৯৮ বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৩৩৮ করা হয়েছে। বৃত্তির হার নির্ধারণ করা হয়েছে— প্রাথমিকে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে এক হাজার টাকা এবং উচ্চ শিক্ষায় এক হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া ৫ হাজার ৪৯০ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা

ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, জন্মগত হৃদ্‌রোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে এককালীন চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। আবার উপকারভোগী ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী এক লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা পান।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবার ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখ করা হয়েছে। প্রতি পরিবার কেজি প্রতি ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে ৬ মাস খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধা

উপদেষ্টা পরিষদের সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানী ভাতা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

জেলে কল্যাণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে নতুন করে যুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকার বলছে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পিছিয়ে পড়া মানুষদের ন্যূনতম জীবনমান রক্ষা করা যায়।

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর