ছবি: সংগৃহীত
অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার যে সিদ্ধান্ত বাংলা একাডেমি নিয়েছে, তা আরো পিছিয়ে রোজার ঈদের পর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।
সমিতির সভাপতির কাছে গত ১৯ জানুয়ারি ২৬২ জন প্রকাশক এক চিঠিতে বইমেলার সময় পুনর্নির্ধারণের আবেদন করেন।
এর সূত্র ধরে শনিবার প্রকাশকদের প্রস্তাব বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মাধ্যমে সংস্কৃতি উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি বলছে, প্রকাশক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই তারা গত ১৭ ডিসেম্বরের সভায় ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে অনুযায়ী বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।
ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রকাশনা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিতে আবেদন করেছে। মেলার আয়োজন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তত ২৫ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব এবং বাংলা একাডেমির সচিব সেলিম রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, “মেলার যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই নির্ধারিত তারিখেই মেলা শুরু করার ব্যাপারে আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতি চলমান আছে।”
প্রকাশকরা বলেন, নির্বাচনের পর বইমেলা হলে ‘আর্থিক ক্ষতির’ মুখে পড়বেন তারা। তারা মনে করছেন, ‘বিদ্যমান বাস্তবতায়’ বইমেলার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন বলেন, “আমরা চাই মেলাটা একুশের চেতনাকে ধারণ করে একটি উত্তম আয়োজন হোক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ ছাপাখানা নির্বাচনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। বই ছাপানোর জন্য শিডিউল পাওয়া যাচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রে। প্রকাশকেরা যে যত্ন নিয়ে বই প্রকাশ করবেন, তার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই।
“ঈদের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। পাঠকরা রমজানের সময় এবং ঈদের আগে বই ক্রয়ে কতটা আগ্রহী হবেন তা অনিশ্চিত। এছাড়া, এবার প্রায় দুই যুগ পর দেশে নির্বাচন হচ্ছে; এই বছর আগের বছরের মতো নয়। সবকিছু বিবেচনায় সরকার নিশ্চয় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।”
প্রকাশনা সংস্থা আদর্শের প্রধান নির্বাহী ও স্বত্বাধিকারী মাহাবুব রাহমান বলেন, “প্রকাশকরা মনে করছেন নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করা বাস্তবসম্মত নয়, তাই বাংলা একাডেমির উচিত তা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। মেলা ঈদের পর করাটাই বাস্তবসম্মত হবে। কেউ কেউ বলছেন ওই সময় ঝড়-বৃষ্টি হয়, তা ফেব্রুয়ারিতেও হয়। ঝড়-বৃষ্টি বিবেচনায় মেলায় প্রস্তুতি নিলে সমস্যা হবে না।”
রোজা শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কারণে প্রথমে বাংলা একাডেমি ডিসেম্বরে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই সিদ্ধান্ত ‘স্থগিত’ করার কথা জানানো হয়। তখন বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ২ নভেম্বর বৈঠকের মাধ্যমে বাংলা একাডেমি নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারি মাসে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন জানানো হয়েছিল, নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হওয়ার পরই মেলার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এরপর বাংলা একাডেমি জানায়, বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।
এএস/

