মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ বাংলাদেশিদের জন্য যেভাবে কাজ করবে
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৮
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’ কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এই কর্মসূচির বিভিন্ন ধাপ ও শর্তাবলি তুলে ধরা হয়।
মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান, তাদের নিরুৎসাহিত করতেই এই বিশেষ জামানত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ভিসা বন্ড কী ও কেন?
ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক জামানত। কোনো দেশের নাগরিককে সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এই অর্থ জমা নেওয়া হয়, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভিসার শর্ত ও থাকার সময়সীমা যথাযথভাবে মেনে চলবেন। বর্তমানে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই পাইলট প্রোগ্রাম কার্যকর করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ভ্রমণকারীকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে।
যেভাবে কাজ করবে এই প্রক্রিয়া
দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর কোনো আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা তাকে ‘pay.gov’ এর একটি সরাসরি লিংকসহ অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন। এই বন্ড পরিশোধের জন্য আবেদনকারী ৩০ দিন সময় পাবেন। বন্ড পরিশোধ নিশ্চিত হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি একটি ‘সিঙ্গেল-এন্ট্রি’ বা একবার প্রবেশযোগ্য ভিসা দেওয়া হবে। তবে এই ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত কিছু ‘পোর্ট অব এন্ট্রি’ বা প্রবেশপথ ব্যবহার করে দেশটিতে ঢুকতে হবে।
অর্থ ফেরত পাওয়ার শর্ত
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পর যদি দেখা যায় ভিসার সব শর্ত পূরণ হয়েছে, তবে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে। তবে অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য প্রধান শর্তগুলো হলো— যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনো প্রকার কাজ করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজ দেশে ফিরে আসতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য নিয়মিত অভিবাসন ভিসা স্থগিতের ঘোষণার পাশাপাশি বাংলাদেশকে এই পাইলট প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার (ওভারস্টে রেট) তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কঠোর কর্মসূচির আওতায় এনেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এমএইচএস

