জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৩
গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে। সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে এসব মামলা প্রত্যাহার করে অভিযুক্তদের অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবেন। এছাড়া ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত নতুন কোনো মামলা দায়েরও বারিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশটিতে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ ও ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে যদি হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কাজটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।
অন্যদিকে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ‘অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তবে কমিশন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত তখন তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
যেহেতু বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন, তাই এই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অন্য যেকোনো আইনের ওপর এটি প্রাধান্য পাবে।
এমএইচএস

