নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে পরিণতি খারাপ হবে : ইসি সানাউল্লাহ
এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৯
ছবি : বাংলাদেশের খবর
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে তার পরিণতি খুব খারাপ হবে। নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সামান্যতম বিচ্যুতিও গ্রহণ করা হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বমূলক কোনো নির্দেশনা কখনো দেওয়া হবে না। তারপরও কেউ যদি নিজের পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন, পক্ষপাতিত্ব বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কিন্তু পরিণতি খুব খারাপ হবে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্ত থাকবে।’
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আমরা সামান্যতম কোনো বিচ্যুতি গ্রহণ করব না। অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে, তার মূল কারণ ছিল নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাব। তাই এক সূতো পরিমাণ পক্ষপাতিত্বও আমরা মেনে নেব না।’
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার নির্বাচন নয়। এটির সঙ্গে দেশীয় ভাবমূর্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও জড়িত।’
‘এ নির্বাচন দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টির মতো। এবার প্রথমবার পোস্টাল ব্যালট কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও এটি প্রথম নির্বাচন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে এমন তথ্যপ্রযুক্তির পরিবর্তন ছিল না,’ যোগ করেন ইসি সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম প্রত্যাশা ছিল মাঠপর্যায়ে সবার ঐক্যবদ্ধতা। এটির মাধ্যমেই সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। ফেনী জেলায় এখন পর্যন্ত সেটি রয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আচরণবিধি মেনে চলার মনোভাব বেড়েছে, যা আমাদের কাজ সহজ করেছে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। এর ব্যত্যয় যেন না ঘটে। নির্বাচন ভালো হওয়ার পূর্বশর্ত ভালো আইনশৃঙ্খলা। এ জন্য সবার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। আমরা যা কিছু হারিয়ে ফেলেছি, সেগুলো পুনরুদ্ধারে সবার ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই।’
ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, ছয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এআরএস

