ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক বাংলাদেশে বিশেষ ‘ইলেকশন সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে টিকটক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করে।
টিকটক জানিয়েছে, এই বিশেষ হাবে ব্যবহারকারীরা আসন্ন নির্বাচনের নির্ভরযোগ্য ও সরকারি তথ্য সহজেই জানতে পারবেন। ২০২০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ২০০টিরও বেশি নির্বাচন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত অপতথ্য ঠেকানো এবং ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইলেকশন সেন্টারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের লিঙ্ক পাবেন। এছাড়া এখানে থাকবে নির্ভুলভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা, ভুয়া খবর বা গুজব চেনার সহজ উপায় এবং নির্বাচনী ভিডিওতে বিশেষ ট্যাগ, যা থেকে সরাসরি তথ্যকেন্দ্রে যাওয়া যাবে।
টিকটকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পাবলিক পলিসি ও গভর্নমেন্ট রিলেশনস প্রধান ফেরদৌস মোত্তাকিন বলেন, “ইলেকশন সেন্টার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা যে কোনো সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারেন। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
টিকটক জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্টে লেবেল দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বা হয়রানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করা হলে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হবে। অন্য প্ল্যাটফর্মে তৈরি এআই কনটেন্টও সিটুপিএ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।
এছাড়া, টিকটক শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ রেখেছে। নির্বাচনী সরকারি সংস্থাগুলো ভোটার সচেতনতার জন্য বিজ্ঞাপন দিতে পারলেও, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি এই সুযোগ পাবেন না। ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সেই নেটওয়ার্ক চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য টিকটক একটি আলাদা ‘ইলেকশন টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে তারা বিশ্বজুড়ে ২০টিরও বেশি ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।
এএস/

