Logo

জাতীয়

এককক্ষ থেকে দ্বিকক্ষ, সংসদ ভবনে চলছে উচ্চকক্ষের আসন বিন্যাস প্রস্তুতি

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭

এককক্ষ থেকে দ্বিকক্ষ, সংসদ ভবনে চলছে উচ্চকক্ষের আসন বিন্যাস প্রস্তুতি

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বইছে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার চিরচেনা রূপ বদলে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলছে জাতীয় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিতে। প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের ১০০ জন সদস্য কোথায় বসবেন, তা নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে শুরু হয়েছে জোরদার কর্মতৎপরতা।

আসন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ 
বর্তমানে জাতীয় সংসদের মূল ভবনের তৃতীয় তলার মূল অধিবেশনে আসন সংখ্যা ৩৫৪টি। এর মধ্যে ৩০০টি নির্বাচিত সদস্য, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন এবং ৪টি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য। প্রাথমিকভাবে স্পিকারের আসনের দুপাশে থাকা ১০০টি ভিআইপি আসন, যেখানে সচরাচর বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান কিংবা বিদেশি কূটনীতিকরা বসেন, সেগুলো উচ্চকক্ষের জন্য ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু বিদেশি প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট অতিথিদের বসার বিকল্প জায়গা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে সরে আসা হয়েছে।

বিকল্প যখন পঞ্চম তলার গ্যালারি 
বিকল্প চিন্তা হিসেবে এখন নজরে রয়েছে সংসদ ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত পাঁচটি দর্শক গ্যালারি- শাপলা, শিউলি, বকুল, যমুনা ও শিমুল। সূত্র বলছে, পাশাপাশি থাকা দুটি গ্যালারিকে একত্রিত করে উচ্চকক্ষের সদস্যদের জন্য আসন তৈরির প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় একটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আর তা হলো বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশা। নকশা যাতে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে স্থাপত্য ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছে সংসদ সচিবালয়।

রাজনীতির গতিপথ ও জুলাই সনদ 
উচ্চকক্ষ গঠনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভর করছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ওপর। ওই দিন একই সাথে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ এর পক্ষে বহুল আলোচিত গণভোট। যদি গণভোটে জনসমর্থন মেলে, তবেই বাংলাদেশ প্রবেশ করবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থায়। গণভোটের অনুমোদনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।

কেমন হবে উচ্চকক্ষ? 
জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট এই উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এই কক্ষের স্থায়িত্বকাল বা মেয়াদকাল হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত। তবে কৌশলগত কারণে এ বিষয়ে এখনই প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন আগামীতে নির্বাচিত হয়ে আসা নতুন সরকারের ওপর।

ডিআর/এমএন

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর