প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ছে, এই দাবি ভিত্তিহীন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৮
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই স্পষ্টীকরণ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে বর্তমান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আরও ১৮০ দিন বা ছয় মাস সময় পাবে। এই দাবির সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের একটি মন্তব্য রয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, অধ্যাপক আলী রীয়াজ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কথা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের পর নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলা হয় :
১. গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে।
২. নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন।
৩. সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে তারা সংস্কার কাজ শেষ করবেন এবং এরপর পরিষদটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই ১৮০ দিন সময়কাল নির্বাচিত সংসদের সংস্কার কাজের জন্য নির্ধারিত, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নয়। প্রচলিত আদেশে বর্তমান সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত বা বিধান নেই।
সরকার সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার এবং সঠিক তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
এমএইচএস

