Logo

জাতীয়

এমএসএফের প্রতিবেদন

মব–গণপিটুনিতে জানুয়ারিতে নিহত বেড়ে দ্বিগুণ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৬

মব–গণপিটুনিতে জানুয়ারিতে নিহত বেড়ে দ্বিগুণ

গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে গণপিটুনি বা মব জাস্টিস এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) প্রকাশিত মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে গণপিটুনির ২৮টি ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন, যা ডিসেম্বরে ছিল ১০ জন। সংস্থাটি বলছে, এই বৃদ্ধি আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। এছাড়া কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৯ থেকে বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনকে একটি ‘কাঠামোগত সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংগঠনটি।

জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ৫৭টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৪৮টি। অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা বাড়াকে সমাজে সহিংসতা ও গুমের আশঙ্কার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে এমএসএফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। জানুয়ারিতে নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৩০ থেকে বেড়ে ১২০ এবং অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ১১০ থেকে বেড়ে ৩২০ হয়েছে। এমএসএফ-এর মতে, এই গণমামলার প্রবণতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দেয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ১ থেকে বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমএসএফ-এর ভাষায়, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যত প্রাণঘাতী সহিংসতার দিকে যাচ্ছে।’

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। জানুয়ারিতে প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ১৫টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ডিসেম্বরে এমন ঘটনা ছিল মাত্র ৪টি। এটিকে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পুনরুত্থান’ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

এমএসএফ-এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘মানবাধিকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবনতি ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ দমন বাদ দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণমামলায় আসামির সংখ্যা বাড়াতে বেশি ব্যস্ত। এমনকি সরকারের কোনো কোনো মহল থেকে মব সন্ত্রাসের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

সংস্থাটি মনে করে, সামগ্রিক এই চিত্র দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধারাবাহিক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে।

এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

মব হত্যা / খুন নিহত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর