Logo

জাতীয়

ভাষার মাস শুরু, ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধায় স্মরণ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৩

ভাষার মাস শুরু, ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধায় স্মরণ

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’— এ অমর পঙ্‌ক্তির আবেগে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হলো বাঙালির ভাষার মাস।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালি অর্জন করেছে ভাষাভিত্তিক স্বতন্ত্র পরিচয়। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় ভাষাশহীদদের।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতিকে ধারণ করেই ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে ভাষা ও দেশপ্রেমের মাস। এ মাসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও বৈচিত্র্য রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানসহ বিভিন্ন কারণে এবার ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শুরু হচ্ছে না অমর একুশে বইমেলা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভায় ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।’ একই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলেও পুনর্ব্যক্ত করলে কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে চিৎকার করে প্রতিবাদ করেছিলেন, যা জিন্নাহকে অপ্রস্তুত করেছিল। 

এ ঘটনার পর ছাত্রদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এখান থেকেই শুরু হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। যা ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়।

বাংলা ভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন ক্রমে তীব্র আকার ধারণ করে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। 

মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে শহীদ হন।

এ আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাঙালি জাতি অর্জন করে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা। সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্মরণে ফেব্রুয়ারি আজও বাঙালির কাছে চেতনা, প্রতিবাদ ও ভাষার ভালোবাসার প্রতীক।

এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

দিবস উদযাপন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর