মেয়াদ থাকতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা ‘অস্বাভাবিক’ : তৌহিদ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা প্রসঙ্গ যে খবর বেরিয়েছে, সেটাকে ভুল তথ্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “এই যে এখানে ভুল তথ্য চলে আসে। আমি বা আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেইনি। আমার পাসপোর্ট এখনও আমার কাছে আছে এবং যথারীতি ওটা বহাল আছে।
“এটা খুব অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তার মেয়াদ থাকাকালে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন; এটা খুবই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটত। সেটা অবশ্যই করি নাই।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার বিষয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ঢাকার কারওয়ান বাজারে সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন বিষয়ক এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে।
মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং জাতিসংঘের ‘ব্যালট’ এবং ‘ড্রিপ’ প্রকল্প ওই প্রশিক্ষণ আয়োজন করে।
নিজে না করলেও উপদেষ্টা পরিষদের কেউ কেউ কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন বলে জানান তৌহিদ হোসেন। তবে কারা করেছেন, তাদের নাম বলেননি তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মন্ত্রীরা কেউ কেউ করছেন, কারণ এরপরে তাদের বাইরে যাওয়ার প্রশ্ন আছে। পাসপোর্ট তো এখন থেকে নিয়ে নিলেন, যাতে করে তাদের ভিসা নিতে সহজ হয় আরকি। সময়মতো তারা নিতে পারেন।
“তারা নিয়েছেন কেউ কেউ। এটা ঠিক। তবে এটা ঠিক নয় যে, আমি পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছি। আমার পাসপোর্ট যথারীতি বহাল আছে।”
কূটনৈতিক পাসপোর্টেতো ভিসা প্রাপ্তি সহজ হওয়ার কথা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ব্যাপারটা হলো যে, একটু সময় গেইন করা, যাতে তাদের এর মধ্যে পাসপোর্টটা হয়ে গেল। মেয়াদ শেষ হলে তারা ঠিকঠাক থাকবে।
“যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বি-ওয়ান, বি-টু ভিসা, সেটা কিন্তু বাতিল হয় না পাসপোর্ট বাতিল হয়ে গেলেও। কিন্তু তাদের তো নতুন পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে। যদি যেতে হয় আরকি।”
‘চারটি উড়োজাহাজ ইজারা পেতে সহায়তা করবে বোয়িং’
মার্কিন নির্মাতা বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে চারটি উড়োজাহাজ ভাড়ায় পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ।
মঙ্গলবার বোয়িংয়ের সঙ্গে ক্রয়চুক্তি হতে যাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা আসলে সরকারের প্রশ্ন না, এটা একটা প্রসেসের প্রশ্ন তো, যেটা আগামীকাল হতে পারে, এক মাস সময় লাগতে পারে। নেগোসিয়েশন কিন্তু চলছে; নেগোশিয়েশন চলছে এবং আমি আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি ফাইনাল হয়ে যাবে।
“কারণ আসলে বিমানের অবস্থা খুবই খারাপ, তাদের এয়ারক্রাফট প্রয়োজন এবং এয়ারক্রাফট কিন্তু আজকে যদি অর্ডার দেন আপনি, এটা কিন্তু আপনি কালকে পাচ্ছেন না, এটাতে প্রচুর সময় লাগে। বিশেষ করে এই মুহূর্তে ওই প্রত্যেকটা বড় কোম্পানিরই বিরাট লম্বা ইনভেন্টরি আছে অলরেডি, অর্ডারের সিরিয়াল আছে। সেই সিরিয়ালের পিছনে পড়ব আমরা।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “একটি আশার কথা, সেটা হলো যে, তারা আমাদেরকে চারটা বিমান লিজে পেতে সহায়তা করবে। এটা বিমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা মিডিল ইস্টে আরও অনেক বেশি ফ্লাইট করতে পারতাম, যদি আমাদের এয়ারক্রাফট আরও বেশি থাকত।”

