Logo

জাতীয়

এবার ভোট গণনায় বেশি সময় লাগবে কেন?

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৪

এবার ভোট গণনায় বেশি সময় লাগবে কেন?

গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন বিগত বছরগুলোর তুলনায় একদমই আলাদা। কারণ, এবার কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনই নয়, একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংবিধান সংস্কারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ‘গণভোট’। এছাড়া প্রথমবারের মতো বিশাল পরিসরে যুক্ত হয়েছে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট। সব মিলিয়ে ভোট গণনা এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণায় অন্যবারের চেয়ে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির ধারণা অনুযায়ী, ৩০০ আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত কিংবা পরদিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু কেন এই বিলম্ব? এর পেছনে কাজ করছে মূলত তিনটি বড় কারণ।

১. এক ভোটারের দুই ভোট : সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
এবারের নির্বাচনে বড় চমক হলো ‘জুলাই সনদ’ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নে গণভোট। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংবিধানের কিছু মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নিতে এই ভোট নেওয়া হচ্ছে।

  • চাপ : প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটারকে দুটি ভিন্ন ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে।
  • গণনার জটিলতা : প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রতিটি ভোট আলাদাভাবে গণনা করতে হবে। অর্থাৎ, সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের প্রার্থীর ভোট গণনার পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটও গুণতে হবে সমান গুরুত্বে। দ্বিগুণ ব্যালট গণনার কারণেই মূলত সময়ের প্রধান সংকট তৈরি হবে।

২. প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ও ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম প্রবাসীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে সাত লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

  • যাচাইকরণ প্রক্রিয়া : ইসির তথ্যমতে, সৌদি আরব (২.৩৯ লাখ), মালয়েশিয়া (৮৪ হাজার), কাতার (৭৬ হাজার) ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা ডাকযোগে ব্যালট পাঠাচ্ছেন। রিটার্নিং অফিসারদের কাছে আসা এই খামগুলোর কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে অ্যাপের মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে। এই ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ।
  • গণনার সময় : নিয়ম অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকযোগে আসা সব ব্যালট মূল বাক্সের ভোটের সঙ্গে যোগ করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসাররা রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে এসব ব্যালট বুঝে নিয়ে প্রার্থী ও এজেন্টদের সামনেই গণনা করবেন।

৩. নিবন্ধনের রেকর্ড ও আইনি হেফাজতের ভোটার
এবারের নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরের সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং কারাগারে থাকা (আইনি হেফাজতে) ভোটাররাও রয়েছেন। ফেনী-৩ আসনের মতো কিছু আসনে ১০ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোটার রয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক কাগজের ব্যালট হাতে ধরে যাচাই ও গণনা করতে পোলিং অফিসারদের হিমশিম খেতে হতে পারে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ‘যেহেতু একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হচ্ছে, তাই দুটি ভোট গণনাই একসঙ্গে শুরু হবে। এর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা দেরি হতে পারে।’

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবার প্রার্থীর সংখ্যা বেশি এবং ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। ব্যালট পেপার বাছাই ও গণনায় সময় বেশি লাগাটা স্বাভাবিক। আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই, তাই সময় লাগলেও নির্ভুল ফলাফল প্রকাশই আমাদের লক্ষ্য।’

এক নজরে পোস্টাল ভোটের পরিসংখ্যান (এখন পর্যন্ত)

  • মোট নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটার : ১৫,৩৩,৬৮৪ জন।
  • বিদেশে পাঠানো ব্যালট : ৭,৬৬,৮৬২টি।
  • ব্যালট সম্পন্ন করেছেন (প্রবাসে) : ৪,৬১,৬০৪ জন।
  • বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে : ১,৯৪,৯১৪টি ব্যালট (সংখ্যার আপডেট চলমান)।

প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ও এনালগ পদ্ধতির সংমিশ্রণ এবং দ্বৈত নির্বাচনের চাপে এবারের ১২ ফেব্রুয়ারির রাত হতে যাচ্ছে দীর্ঘ ও উত্তেজনাকর। নির্বাচন কমিশন সকল ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ধৈর্যের সাথে ফলাফল ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন গণভোট

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর