Logo

জাতীয়

জুলাই সনদের লক্ষ্য রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া : আলী রীয়াজ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১১

জুলাই সনদের লক্ষ্য রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া : আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রের লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এই পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাবি প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এই সভার আয়োজন করে।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে এবং কোনো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয়, সেজন্য জুলাই সনদের কথাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। বিগত ৫৪ বছরে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ এসেছে, তা হেলায় হারানো যাবে না।’

সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। এর ফলে কোনো দল যদি সরকার গঠন করতে না-ও পারে, কিন্তু ৫ শতাংশ ভোট পায়, তবে উচ্চকক্ষে তাদের ৫ জন প্রতিনিধি থাকবে। সংবিধান সংশোধনে এই উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা (কমপক্ষে ৫১ ভোট) বাধ্যতামূলক হবে, যা ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের ‘ছেলেখেলা’ বন্ধ করবে।

বিদ্যমান সংবিধানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, আগে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সবকিছু চলত। রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারেন না। নির্বাচন কমিশন বা বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকলেও বাস্তবে তা সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুযায়ী হতো। বর্তমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।

ড. রীয়াজ শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে বলেন, রাজশাহীর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেড় লাখ শিক্ষার্থী যদি অন্তত ৫ জন করে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করেন, তবে ৬ লাখ মানুষের রায় নিশ্চিত হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, গোলাপি ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’ দেওয়াই হলো ‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্লা এবং নর্থ-বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ছায়েদুর রহমান প্রমুখ।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আলী রীয়াজ গণভোট জুলাই সনদ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর