আনিস আলমগীরের ফ্ল্যাটে অভিযান, ৬ কোটি টাকার সম্পদের নথি জব্দ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৩
আনিস আলমগীর
কারাগারে আটক সাংবাদিক আনিসুর রহমান আলমগীর ওরফে আনিস আলমগীরের রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় কোটি টাকার সম্পদের নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি কমিশনের একটি বিশেষ দল ধানমন্ডির ১২ নম্বর সড়কের (পুরোনো-৩১) ৮ নম্বর বাড়ির বি-৩ ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে এসব নথি জব্দ করে।
তিন কোটি ২৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে উদ্ধার করা নথিগুলো আদালতে চার্জশিট দাখিলের সময় উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ১৫ সদস্যের একটি দল ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। দলে দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আসামির স্ত্রী, সন্তান ও ভবনের নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের এক সূত্রের তথ্যমতে, উদ্ধার করা নথিপত্রে উল্লেখিত অর্থ ও সম্পদের তথ্য আনিস আলমগীর তাঁর আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেননি। জব্দ করা নথির মধ্যে রয়েছে ৬৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের দলিল। দলিল নম্বর ৬৩৩, তারিখ ১৬-২-২০২৫। ফ্ল্যাটের চুক্তি-সংক্রান্ত নথিতে এর মূল্য দেড় কোটি টাকা উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় রাখা ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার আটটি মেয়াদি আমানতের (ফিক্সড ডিপোজিট) নথি, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার চারটি মেয়াদি আমানতের নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নথির বিপরীতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৯২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ ছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনিস আলমগীরকে আটক করে। পরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের আদেশে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরই মধ্যে দুদকের মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
আনিস আলমগীর দৈনিক আজকের কাগজ, বৈশাখী টেলিভিশন ও আরটিভিতে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ফটোগ্রাফি বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এএস/

