চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, সংকট নিরসনে প্রধান উপদেষ্টাকে ৪ ব্যবসায়ী সংগঠনের চিঠি
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৫
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘট ও গভীর অচলাবস্থা নিরসনে জরুরি উদ্যোগ নিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে খোলা চিঠি দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় চার ব্যবসায়ী সংগঠন। শনিবার পাঠানো এই যৌথ চিঠিতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিইএফ এবং বিটিএমএ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এই বন্দর অচল হয়ে পড়লে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
ব্যবসায়ী নেতারা চিঠিতে উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বন্দরে এমন অস্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ৭৮ শতাংশ এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাস ও সরবরাহ বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ জটের ফলে আমদানিকারকদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা 'ডেমারেজ চার্জ' হিসেবে গুনতে হচ্ছে। এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপর এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা ও পরিচালনা নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ এখন সাংঘর্ষিক রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই সংকট নিরসনে শ্রমিক, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতার ভিত্তিতে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল থেকে পুনরায় লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'। এর ফলে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাবে জেটিতে ১২টি জাহাজ আটকা পড়েছে।
এমএন

