নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব না দিলে হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬
গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব দাখিল না করলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
এ বিষয়ে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একটি পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৪গ (১) অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী এজেন্টকে (এজেন্ট নিয়োগ না করলে প্রার্থী নিজেই এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন) ফরম-২২-এ এফিডেভিটসহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর ৩১ বিধি অনুযায়ী ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে ফরম-২২ক, ২২খ ও ২২গ অনুযায়ী হলফনামা দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি দাখিল করা রিটার্ন ও এফিডেভিটের অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী বা পরাজিত— সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় না হলেও নির্ধারিত ফরমে তা উল্লেখ করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৪৪গ অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন যথাযথভাবে দাখিল না করলে বা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে অনুচ্ছেদ ৭৪ অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর এবং ন্যূনতম দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড হতে পারে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী এ বিধান লঙ্ঘন করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনের বিরুদ্ধে মামলা না হলে অপরাধ সংঘটনের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। আর হাইকোর্টে কোনো মামলা বিচারাধীন থাকলে আদালতের আদেশের তিন মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের জন্য নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।
এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়ের তহবিলের উৎস, ব্যয়ের হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট সব দলিল রিটার্নিং কর্মকর্তা এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআইবি/এমএইচএস

