টিআই সূচকে বাংলাদেশ ১৩তম, দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ২০২৫ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে (CPI) বাংলাদেশ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে বৈশ্বিকভাবে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে সামান্য উন্নতি হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কারণে দেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডি কার্যালয়ে টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকার উৎখাতের সুযোগ ছিল, তবে অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তা হয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের স্কোর ২০২৪ সালের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪ হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশ তুলনামূলকভাবে বেশি অগ্রগতি দেখানোর কারণে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ পিছিয়েছে। টিআইবির মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩২ দেশের মধ্যে চতুর্থ সর্বনিম্ন। বৈশ্বিকভাবে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বনিম্ন কুইন্টাইলে (১৫০তম)।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছিল না। দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা এ অবস্থার মূল কারণ।” তিনি এও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীন ও কার্যকর করতে সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি, বরং এর কার্যকারিতা সীমিত করতে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক ৮৯ স্কোরে শীর্ষে। অন্যদিকে ৯ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভুটান ৭১ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতি কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে বাংলাদেশেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।” তিনি পরবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন– দুদককে স্বাধীন করা, সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, অর্থ পাচার রোধে আইন সংস্কার, দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম ও সিভিক স্পেসের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও মন্তব্য করেন, “বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার জন্য প্রধান দায় আওয়ামী লীগের ওপর। যদি তারা অনুশোচনা করে এবং ভুল স্বীকার করে, দেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করবে। তবে তা সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করছে।”
এএস/

