আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেল বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণভোট
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স, দ্য হিন্দু ও জিও নিউজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম দিনব্যাপী নির্বাচন নিয়ে লাইভ আপডেট ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করে, ‘শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম নির্বাচনে ভোটারের দীর্ঘ সারি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ১২ কোটির বেশি ভোটার নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোট দিয়েছেন। অনেক নাগরিক এ নির্বাচনকে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবিসির লাইভ ব্লগে বলা হয়, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। বিক্ষোভে বহু হতাহতের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম করে, ‘শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে তারেক রহমানের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরে দুর্নীতির অবসান ও নতুন রাজনৈতিক পথের অঙ্গীকার করেছেন।
আল জাজিরা তাদের লাইভ কাভারেজে জানায়, এ ভোট কেবল সরকার গঠন নয়, বরং সংস্কার-প্রক্রিয়া নিয়ে গণভোট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়।
পাকিস্তানের জিও নিউজ শিরোনাম করে, ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর যুগান্তকারী ভোটে বাংলাদেশ।’ সেখানে ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সারি ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস তুলে ধরা হয়।
ভারতের দ্য হিন্দু জানায়, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও বিএনপি কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত ৩২ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণভোট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এসএসকে/

