Logo

জাতীয়

নির্বাচন ব্যবস্থার সংকট কাটল

Icon

এম. ইসলাম

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭

নির্বাচন ব্যবস্থার সংকট কাটল

গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে চলা বিতর্ক, অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকরা। তাদের মতে, দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অবসান এবং ‘জুলাই চেতনা’র বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলেও প্রত্যাশা করছেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম- এ বিষয়টিও এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে মারাত্মক সংকটের মুখে ফেলে দেয় বলে তাদের অভিমত। একদিকে অভিযোগ ওঠে পাতানো নির্বাচন এবং ‘রাতের ভোট’ নিয়ে, অন্যদিকে এসব নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোটসহ বেশির ভাগ বিরোধী রাজনৈতিক দল বয়কট বা বর্জন করেছিল। ফলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তীব্রভাবে কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে কার্যত গণতন্ত্রহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর মধ্য দিয়ে নতুন করে নির্বাচনী ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রায় দেড় বছর পর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এটিকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইতিহাস গবেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তার ভাষায়, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় আপসহীন অবস্থানে রয়েছে তা স্পষ্ট হয়েছে।’ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফল হিসেবেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। তার মতে, কোন দল সরকার গঠন করবে, তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হওয়া।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর ছিল। কারণ, সম্প্রতি দেশে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। ফলে সেই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না- ‘এটি ছিল বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, সরকার, সেনাবাহিনী ও প্রশাসন জনগণকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবে কি না এ নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা সেই সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে বলে তিনি মনে করেন।’ সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন বাস্তবতার সূচনা হতে পারে।

বিকেপি/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর