রাজধানীজুড়ে এখনো ছুটির আমেজ। রাস্তায় যান চলাচলওস্বাভাবিকের তুলানায় অনেক কম। নির্বাচন উপলক্ষে নগরবাসীর বড় একটি অংশ গ্রামে চলে যাওয়ায় অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা রয়েছে।যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব এবং সেনাবাহিনীও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ রেখেছে। অব্যাহত রয়েছে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম। চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, কাকরাইল, শাহবাগ, প্রেসক্লাব, কাওরান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুর, রামপুরা, বাড্ডা, বসুন্ধরা, খিলক্ষেতও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শাহরিয়ার আলী জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশের নজরদারী অব্যাহত আছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ৬টি থানা এলাকায় সবগুলো টহল টিম সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালন করা হচ্ছে। নির্বাচনের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত এখানো কোন ধরনের অপ্রীতিকির ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান (ডিসি)জানান, পুলিশের নির্বাচনী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ও বিভিন্ন মোড় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া টহল ডিউটিও অব্যাহত আছে।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বলেন, থানা এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের পেট্রোল ডিউটিও কমেনি। যেকোনও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছি আমরা। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীসহ সারা দেশে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকির ঘটনা না ঘটায় স্বস্তিতে আছে আইনশৃঙ্খলা বহিনী। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় এই সফলতা অর্জিত হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের দিন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন হলেও নির্বাচনের পর দিন গতকাল শুক্রবার দেশের কিছু কিছু স্থানে হামলা, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, মেহেরপুর, পটুয়াখালী ও দিনাজপুরে এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
ঝিনাইদহে নির্বাচনের পর পৃথক তিনটি সহিংসতায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে। এছাড়াবাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম।
এদিকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন শেষে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে অভিনন্দন জানানো হয়। বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোন মৃত্যুর ঘটনা ছাড়াই জাতীয় নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা কার্যক্রম বিষয়েঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড.তৌহিদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, যে কোন নির্বাচনেই আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের মতো দুটি পর্যায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হচ্ছে ভোটের দিন এবং অপরটি হচ্ছে ফলাফল ঘোষণা-পরবর্তী পরিস্থিতি। এবার প্রথম পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকলেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার পেয়েছি বলে ধরে নিতে পারব। প্রসঙ্গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের উপলক্ষে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এর পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। টানা চার দিনের ছুটি পেয়ে ভোট দিতে রাজধানী ছেড়ে অনেকেনিজ এলাকায় গ্রামে গেছেন। নির্বাচনের পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠুরাখতে আজ শনিবার পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে গত ৭ জানুয়ারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্রে বলা হয়,দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
বিকেপি/এমবি

