নির্বাচন ‘প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য’ হয়েছে : ইইউ পর্যবেক্ষক দল
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৭
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের প্রতিনিধিরা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন তুলে ধরে এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ইইউ পর্যবেক্ষক দল মনে করে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নাগরিকের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি নতুন ধাপে পা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইইউ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক আইভারস আইজ্যাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর এবারের নির্বাচন সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) অত্যন্ত স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা পালন করেছে, যা একটি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক ছিল। ইইউ প্রতিনিধি দল মনে করে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং কমিশন অংশীজনদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক বললেও নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইইউ প্রতিনিধি দল। আইভারস আইজ্যাবস বলেন, ‘নির্বাচনে মাত্র চার শতাংশ নারী প্রার্থী ছিলেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিপরীত। ভোটার অনুপাতে নারীদের এই নগণ্য অংশগ্রহণ সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় একটি ঘাটতি।’
ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের প্রধান টমাস জেডেচোভস্কি জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘাতের খবর পাওয়া গেলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ ছিল। ইইউ প্রতিনিধি দল বর্তমানে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মিশন জানায়, আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত সুপারিশ থাকবে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকা এবং অংশগ্রহণমূলক হওয়া নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইজ্যাবস বলেন, ‘আমরা এখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। রাজনৈতিক বিতর্কে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ মূল্যায়নই আমাদের মূল এজেন্ডা ছিল।’
এমএইচএস

