জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের নির্বাচন হয়েছে : কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষণ মিশন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১১
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম নানা আকুফো আদো।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
কমনওয়েলথ মিশন উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কার ও ‘জুলাই চার্টার’ নিয়ে সংলাপের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই রূপান্তরের প্রক্রিয়া এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশকে তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।
এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য এবং কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ রাখাকে একটি ‘সাহসী ও ইতিবাচক’ পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছে কমনওয়েলথ। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহারের ফলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তারা মনে করে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণের জন্য তারা ইসি, অন্তর্বর্তী সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছে।
নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের স্বল্পতা (মাত্র ৪ শতাংশ) এবং মাত্র ৭ জন নারীর নির্বাচিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিশন। তারা জানায়, প্রচারণাকালে নারীদের অনলাইনে হয়রানি ও বুলিং-এর শিকার হওয়া একটি বড় বাধা। অন্যদিকে, তরুণদের সক্রিয় রাজনৈতিক সচেতনতা থাকলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রভাব এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমনওয়েলথ মিশন বাংলাদেশের প্রাণবন্ত গণমাধ্যমের প্রশংসা করলেও ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’ অফিসে অগ্নিসংযোগ ও সাংবাদিকদের ওপর হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃণ্য বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি নিয়ে তারা সতর্ক করেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা লক্ষ্য করার কথা জানিয়ে মিশন প্রধান সকল পক্ষকে শান্ত থাকার এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। এছাড়া ভবিষ্যতে ভোটকেন্দ্রগুলো শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য আরও সুগম করা এবং নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে, যেখানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে বিস্তারিত সুপারিশ থাকবে।
এমএইচএস

