কারা হচ্ছেন নতুন সরকারের মন্ত্রী? আলোচনায় যাদের নাম
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:২৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা পর্যায়ের আলোচনা। সরকার গঠনকে সামনে রেখে দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি নবীন নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনে গতি আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন চিন্তা এবং দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্ব তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। জাতীয় সংসদের ২৯৭ আসনের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই দিন সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন বলে জানা গেছে।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। মন্ত্রিসভার আকার ও সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল।
কারা থাকছেন আলোচনায়
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১–২০০৬ মেয়াদের সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভায় রাখার চিন্তা রয়েছে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতির পদে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে থাকতে পারেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির মন্ত্রিসভা কেমন হবে তা দেখতে দেশবাসীকে অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।
মন্ত্রিসভায় নবীন মুখ
নতুন মন্ত্রিপরিষদে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমিনুল হকসহ আরও কয়েকজন নেতা। টেকনোক্র্যাট কোটায়ও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অংশগ্রহণ
বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্বও নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে। দলীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা একসঙ্গে ছিলেন, সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় তাদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। আলোচনায় রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া, নুরুল হক নুরু, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।
বিএনপির নেতারা আশা করছেন, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার কাজ করবে।
এসএসকে/

