‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা নেই’
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৫০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশটি থেকে যেসব পণ্য আমদানি করতে হবে, তাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশ নম্বর ১৪২৫৭ জারি করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পারস্পরিক ট্যারিফ (আরটি) আরোপ করা হয়। এর পরপরই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তী আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ৩০ আগস্ট একটি সংশোধিত আরটি হার নির্ধারণ করে, যেখানে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ২০ শতাংশ।
গত নয় মাস ধরে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষি করে শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামাতে সক্ষম হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস অংশ নেয়।
চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সহজীকরণ, রুলস অব অরিজিন, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা ব্যবস্থা (এসপিএস), কারিগরি বাধা (টিবিটি), বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতাসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ আগেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অনুস্বাক্ষরকারী হওয়ায় এআরটিএ–তে নতুন কোনো শর্ত আরোপ হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব পণ্য আমদানির অঙ্গীকার করেছে, সেগুলো আগে অন্য উৎস থেকেও আমদানি করা হতো। ফলে উৎস পরিবর্তনের মাধ্যমে রপ্তানি বাজার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কা নেই।
টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তু আমদানি করে উৎপাদিত পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য আরটি হারে বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
রুলস অব অরিজিনে বিদেশি বা দেশীয় মূল্য সংযোজনের নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হয়নি, ফলে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত মার্কেট এক্সেস নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও কাঠজাত পণ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ হাজার ১৩২টি ট্যারিফ লাইন/এইচএস কোড ধাপে ধাপে শুল্কমুক্ত করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ই-কমার্সে পার্মানেন্ট মোরাটোরিয়াম সমর্থন, পেপার লেস ট্রেড, আই পি আর এনফোর্সমেন্ট, এস পি এস/টিবিটি কমানো, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেডিক্যাল ডিভাইস ও ফার্মাসিউটিক্যালস আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সনদ স্বীকৃতির বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতা, বিনিয়োগ লিবারালাইজেশন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের অনুরোধে চুক্তিতে এক্সিট ক্লজ সংযোজন করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুফল অর্জিত হবে।

