ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ২৯৬ জন এমপির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপরই সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রস্তুতি শুরু হবে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন এবং প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে যে পরামর্শ দেন, রাষ্ট্রপতি সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের বৈঠক আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ায় আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে। সে কারণে রোজার মধ্যেই সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার নতুন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদেরও শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।
একই দিনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও পৃথক শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। ফলে সংসদ ভবন ও দক্ষিণ প্লাজায় মোট তিনটি আলাদা শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, দুই ধাপে সংসদ সদস্যদের শপথ হবে— প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে সংস্কার কার্যক্রমের জন্য। এরপর বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তার ওপর নির্ভর করছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। পরে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মতিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রস্তাব গৃহীত হবে। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এসএসকে/

